জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন।

Showing posts with label ফিচার. Show all posts
Showing posts with label ফিচার. Show all posts
On 12:43 PM in
আমাদের অধিকাংশেরই মন মানসিকতা এমনভাবে গড়ে ওঠেছে যে, চাকরগিরী কিংবা কেরানিগিরী করা ছাড়া স্বাধীন উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তাও যেন আমরা করতে পারিনা। ফলে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মুখে যখন শুনি, তরুণরা চাকরিপ্রার্থী নন, তারা চাকরিদাতা। পৃথিবীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন বেকারত্ব বলে কিছু থাকবে না, বিশ্বে একজন মানুষও বেকার থাকবে না। সুস্থ শরীরের একজন মানুষ বেকার থাকবে- এটা হতে পারে না। তখন অনেকে বিস্মিত হয়, অনেকে আবেগী হয়। চমৎকৃত হওয়া মানেইতো চ্যালেঞ্জকে গ্রহণের মতো সাহসী হওয়া নয়।ফলে লেখাপড়া শেষে অনেকে আশা ভরসা নিয়ে চাকরীর সন্ধানে নামে এবং বেকার হওয়ায় সমাজে অপমান আর অবহেলার শিকার হয়।

বেকারত্ব কি ?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুসারে, বিগত চার সপ্তাহ ধরে কাজ খুঁজেছে তবে কাজ পায়নি কিন্তু আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ পেতে পারে বা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যমান মজুরিতে কাজ শুরু করবে এমন কর্মক্ষম মানুষকে বেকার বলা হয়৷

অধ্যাপক পিগুর ভাষায়, 'ঐ অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয় যখন কর্মক্ষম ব্যক্তিরা প্রচলিত মজুরীতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্তেও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় না।' এখানেও অনিচ্ছাকৃত বেকারত্বের কথাই বলা হয়েছে।

বিত্তবান লোকের সন্তান যাদেরকে আলালের ঘরের দুলাল বলা হয় তাদেরকে বেকারদের তালিকায় ফেলা ঠিক নয়। কারণ তারা কর্মক্ষম হওয়া সত্তেও কোন কাজ না করে বাপ দাদার সঞ্চিত সম্পত্তি ভোগ করে আলস্যে দিন কাটায়। এরূপ ইচ্ছাকৃত কর্মবিমুখদের ঠিক বেকার বলা না গেলেও, এরাও কিন্তু এ জাতির জন্য একটি অভিশাপ।

বেকারত্ব: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) তথ্যমতে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর কর্মবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ২৭ লাখ আর চাকরি পাচ্ছে ১ লাখ ৮৯ হাজার। অর্থাৎ মাত্র ৭ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। বাংলাদেশে বর্তমানে বেকারত্ব বাড়ার হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বেকারত্বের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে দাঁড়াবে। সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বেকার, বর্তমান কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২ শতাংশ। মোট বেকারের মধ্যে আংশিক বা পার্ট টাইম বেকারের সংখ্যাই বেশি।

দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিও (ইউএনডিপি)। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০-৯৫ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী বেকার জনগোষ্ঠী ছিল ২৯ লাখ। ২০০৫-১০ সালের মধ্যে তা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় এক কোটি ৩২ লাখে।

২০১২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে কাজ পাচ্ছে মাত্র সাত লাখ। উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরাও রয়েছেন এর মধ্যে।

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে একই ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৮, নেপালে ২০ ও শ্রীলংকায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় এর চেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত বেকার আছেন কেবল আফগানিস্তানে, ৬৫ শতাংশ। এর বাইরে ভারতে এর হার ৩৩ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে শ্রমশক্তির পরিমাণ পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ মানুষের কাজ আছে। এর অর্থ মাত্র ২৬ লাখ মানুষ বেকার। তবে জরিপেই বলা আছে, পরিবারের মধ্যে কাজ করে কিন্তু কোনো মজুরি পান না, এমন মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১১ লাখ। এ ছাড়া আছে আরও এক কোটি ছয় লাখ দিনমজুর, যাঁদের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। দেশে মোট কর্মজীবী মানুষের ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, যেমন পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ডেকোরেশন ও বিভিন্ন সেবা খাতে নিয়োজিত। আর মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, সরকার কম দেখালেও প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর ওপর এখন প্রতিবছর নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছেন। সুতরাং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চাপ রয়েছে অর্থনীতির ওপর। দৈনিক ২ মার্কিন ডলারের সমান অথবা কম আয়ের সীমাকে দারিদ্র্যসীমা বিবেচনা করলে দেশে মোট জনসংখ্যার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০১২ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তরসহ উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ। তাঁদের মধ্যে ৯২ হাজার ৭৪৭ জন স্নাতক পাস, এক লাখ ২৮ হাজার ৪৮১ জন স্নাতক সম্মান এবং ২১ হাজার ৩৮০ জন কারিগরি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, দুই হাজার ৩৮৫ জন স্নাতকোত্তর (কারিগরি) এবং এক হাজার ৭৬৩ জন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট অর্জন করেন দুই হাজার ৩৩৫ জন।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সূত্র মতে, গত ছয় মাসে শিল্প খাত থেকেই প্রায় ১০ লাখ লোক কাজ হারিয়েছেন। নির্মাণ খাত, কৃষি, পোলট্রি এবং সেবা খাতেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। ২০০০ সালের তথ্য অনুযায়ী শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ এবং আন্ডার এমপ্লয়মেন্টের শিকার প্রায় ৫৫ লাখ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিক্ষিত বেকার শ্রমবাজারে আসছে। যার মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ চাকরি পেলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ বেকার থাকছে কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না।

‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মাসিক ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’র ২০১৪ সালের মে সংখ্যায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, গত এক দশক ধরে বেকারত্ব বৃদ্ধির যে প্রবণতা তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী বছর (২০১৫) দেশে বেকারের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৩ লাখে। বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি আংশিক বেকারত্বও বাড়ছে। ১৯৯৫ সালে দেশে মোট চাকুরিজীবী ও বেকারের সংখ্যা যথাক্রমে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ও ১৪ লাখ যা ২০১০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ও ২৬ লাখে উপনীত হয়েছে।

বেকারত্ব: বৈশ্বিক প্রেক্ষিত
বিশ্বজুড়ে দ্রুত গতিতে ক্রমবর্ধমান আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে বেকারত্ব। বিশ্বের ২৩টি দেশের ১১ হাজার মানুষের ওপর এক জরিপ চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। জরিপে বলা হয়, বেকারত্বের কারণে মানুষের মধ্যে দিন দিন ভীতি বাড়ছে। দ্য ওয়ার্ল্ড স্পিকস নামের প্রতিষ্ঠান ২৩টি দেশের সচেতন মানুষের উপরে এই জরিপ চালায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্পেনে তরুণ বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি। অবস্থা এতটা শোচনীয় হয়ে পড়েছে যে, ইউরোপের বহু পরিবারের পক্ষে দু'বেলা দু'মুঠো অন্নের সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী -এমনকি অনেক গৃহবধু সংসারের ভরণ- পোষণের জন্য দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন। লঙ্গরখানাগুলোতে দিন দিন মানুষের ভিড় বাড়ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বর্তমানে গড় বেকারত্বের হার ১০.৮ শতাংশ। ইউরোপে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরো অঞ্চলের ১৭টি দেশে মৌসুমি বেকার মিলে মোট বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। বেকারত্বের এই হার ১৯৯৮-৯৯ সালে ইউরো মুদ্রা প্রচলন হওয়ার পর সর্বোচ্চ। ।নতুন প্রজন্ম চাকরি না পেয়ে দাঙ্গায় নামতে বাধ্য হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রী নিয়ে স্নাতকরা কফিশপ বা রেস্তোরায় খাবার সার্ভ করবে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট কর্মজীবীর সংখ্যা যদি ২৪ কোটি ধরা হয় তবে তাদের মধ্যে অনন্ত সাড়ে ৬ কোটি ওভায়কোয়ালিফায়েড৷ তারা যে কাজ করছেন তার থেকে অনেক বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন, এমনই এইসিডির পরিসংখ্যান৷ এছাড়াও য়ারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও পার্টটাইম চাকরিতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের সংখ্যাও প্রায় ৯০ লক্ষ৷ আর ইচ্ছে অনিচ্ছে বাদ দিয়ে ইউরোপের মোট কর্মজীবীর এক-পঞ্চমাংশই পার্ট টাইম কাজ করেন৷

ইউরোপের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডেভিড স্ট্যাকলার বলেছেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ার পর আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে গেছে। ইউরো নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, অর্থনৈতিক সংকট ইউরোপে আত্মহত্যার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১০ সালে গ্রিসে আত্মহত্যার হার যেখানে ছিল শতকরা ১৮ ভাগ, সেখানে ২০১১ সালে তা ২৫ ভাগে এসে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের রক্ষা করুন' নামক একটি ব্রিটিশ দাতব্য প্রতিষ্ঠান বলেছে, দেশটির ১৭ লাখ শিশু মারাত্মক দারিদ্রের শিকার এবং তারা পরিমিত খাবার ও পোশাক থেকে বঞ্চিত।

বর্তমানে গ্রিসে ২০ ও স্পেনে ৩০ শতাংশ বেকার রয়েছে। স্পেনে শুধুমাত্র ২০১২ সালের প্রথম তিন মাসে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ ব্যক্তি চাকরি হারিয়েছেন। দেশটির ২৫ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার দ্বিগুণ। বর্তমানে স্পেনের যুব সমাজের অর্ধেকেরও বেশি বেকার। স্পেন সরকার অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারি খাতের কর্মজীবী মানুষের বেতন কমিয়েছে, অবসর গ্রহণের বয়স সীমা বাড়িয়েছে এবং শিক্ষা ও চিকিতসাসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা খাত তুলে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে বহু কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে। কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন।

এসব দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। ঋণগ্রস্ত ইতালিতেও বেকারের সংখ্যা আট দশমিক নয় শতাংশ হয়েছে। ২০০৪ সালের পর এ হার সর্বোচ্চ। দুই বছরের গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে ইউরোপে কর্মসংস্থানে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বৃহত্ কোম্পানিগুলো ব্যয় হ্রাসে কর্মী ছাঁটাই করছে। সর্বশেষ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল সরঞ্জাম নির্মাতা নকিয়া সিমেন্স নেটওয়ার্ক জার্মানিতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে। এর মাধ্যমে এক বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধির গতিতে মন্থরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ইউরো জোন মন্দার মধ্যে আছে। কারণ, তাদের ঋণ সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। জার্মানী ছাড়া ইউরো জোনের অপর ১৬টি দেশের অর্থনীতিই আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর’স সমপ্রতি ফ্রান্সের ঋণমান এক ধাপ নামিয়ে দিয়েছে। সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে দেশটির সামর্থ্য হ্রাস পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় বিরাজমান রাজনৈতিক উত্তেজনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপকরণ জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইউরোপের দুরবস্থ, বেকারত্ব মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের নীতি-নির্ধারকদের ব্যর্থতা, সার্বভৌম ঋণ সঙ্কট ও আর্থিক খাতগুলোর ভঙ্গুরতা বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যত্ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছে।

আইএলওর বার্ষিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, আগামী ২০১৮ সাল নাগাদ বিশ্বে বেকারের সংখ্যা হবে ২১ কোটি ৫০ লাখ। সংস্থার মহাপরিচালক গে রাইডার বলেন, উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটলেও একই সঙ্গে বেকারত্বও বাড়ছে। আগামী বছরগুলোতেও বেকারত্ব বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, বর্তমানে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলছে, তা বেকার কমাতে ব্যর্থ। তাই প্রবৃদ্ধি আরো জোরালো না হলে বেকারত্ব পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা উচিত। সংস্থা জানায়, গত বছর উত্তর আফ্রিকায় বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ অঞ্চলে বেকারত্ব বেড়ে হয়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর পাশাপশি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্য উন্নত দেশগুলোতে বেকারত্বের হার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলে ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং সাব-সাহারা আফ্রিকায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এ হার লাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে চীন নেতৃত্বাধীন পূর্ব এশিয়ায় বেকারত্ব ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বেকারত্ব ৪ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্বে গড়ে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশ হলেও ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব ১৩ শতাংশ ছিল গত বছর, যা উদ্বেগের কারণ হিসেবে মনে করছে আইএলও।

ইনফোসিসের সিইও এস ডি শিবুলালের মতে, ‘ভারতে লাখ লাখ চাকরির সংস্থান করা হয়েছে এবং আমার জীবনেই আমি দেখলাম এখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যা তিন কোটি থেকে বেড়ে ৩০ কোটিতে ঠেকেছে। ভারতের আইটি খাত প্রত্যক্ষভাবে ২২ লাখ ও পরোক্ষভাবে ৮০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ১২০ কোটি লোকের একটি দেশে যেখানে এক কোটি ১০ লাখ লোক সম্পূর্ণ বেকার, সেখানে এটা সাগরে এক ফোঁটা পানির সমতুল্য। দেশটি প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ গ্র্যাজুয়েট ও ১০ লাখ ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করছে। অথচ এর মাত্র ২৫ শতাংশের কর্মসংস্থানের ক্ষমতা রাখে।

বেকারত্বের প্রভাব
বেকারের আত্মপরিচয় সংকট: একজন বেকারকে যখন কেউ প্রশ্ন করে, তুমি কী কর?- প্রশ্নের উত্তর দিতে তার বিব্রতবোধ হয়। কারণ সার্টিফিকেট ফাইলবন্দী করা, পে-অর্ডার আর ব্যাংক ড্রাফট করা, সার্টিফিকেট ও সিভি ফটোকপি করা, সাপ্তাহিক চাকরির পত্রিকা কেনা, মাসিক কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স কেনা, দৈনিক পত্রিকাগুলোতে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখা, প্রতিদিন বিডি জবস্ কিংবা প্রথম আলো জবস্ ওয়েবসাইট দেখা, প্রতিদিন নিজের ইমেইল আইডির ইনবক্স দেখা ও সিভি সেন্ড করা, কখনো সাইব্যার ক্যাফেতে বসে অনলাইনে ফরম পূরণ করা আর এডমিট কার্ড ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রিন্ট করা, ফেসবুকে বিভিন্ন জব সংক্রান্ত গ্রুপ গুলোর পোস্ট দেখা-এসব নানান কাজ। এর বাইরেও অনেকে খেয়ে না খেয়ে গ্রুপ স্টাডি করেন, পড়ার জন্যে পাবলিক লাইব্রেরী পর্যন্ত যান, নীলক্ষেত থেকে বই কেনা ও লেকচারশীট ফটোকপি করতে করতে অনেক পুস্তক বিক্রেতা কিংবা ফটোকপির দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে, Fণ করে হলেও কোচিং সেন্টার গুলোতে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির আশায় ভিড় করেন- তারপরও চাকরি নামের সোনার হরিণ কপালে জুটেনা।

বেকারের অভাববোধ ও মানসিক চাপ: চাকরি নামের সোনার সাক্ষাৎ মিলবে কি করে? শুধু মেধা ও যোগ্যতা থাকলেইতো চাকরি হয়না। এজন্যে সুপারিশ লাগে, তদ্বির লাগে, ঘুষ লাগে।একটু নেক নজরের আশায় পকেটে রিক্সা ভাড়া না থাকা সত্ত্বেও পায়ে হেঁটে জুতার তলি ক্ষয় করে বড় সাহেবদের চেম্বারে যান। জীবনেও যার ব্যাপারে কারো মুখে প্রশংসা শুনেন নি এমন অপছন্দনীয় ব্যক্তিরও প্রশংসা করেন, নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী ব্যক্তি হয়েও কোন মূর্খ রাজনীতিবিদ নেতা কিংবা ম্যাট্রিক পড়ুয়া ব্যবসায়ীর কাছে নত শিরে চাকরির জন্যে আকুল আবেদন জানান। তিনবেলা পেটে ভাত না জুটলেও রীতিমতো প্যান্ট-শার্ট, কোর্ট-ট্যাই পরিধান করে স্মার্টনেস বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থেকেও অনেক সময় বড় সাহেবের ব্যস্ততায় সাক্ষাত লাভে অক্ষম হয়ে ব্যর্থ মনে ঘর্মাক্ত দেহে ফিরে আসেন।অনেকে নিদ্রায় অনিয়ম, দুশ্চিন্তা, পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ না পাওয়ায় রোগাক্রান্ত হন, দুর্বল হয়ে পড়েন। পরিবার থেকে টাকার চাহিদা জনিত কারণে বারবার চাকরি নেবার তাগাদা, বৃদ্ধ বাবা মা কিংবা দাদা দাদির শখ পূরণে কিংবা মৃত্যুর আগে নাতি নাতনি বা পুতি পুতনি দেখার প্রত্যাশা পূরণেবিয়ের জন্যে পীড়াপীড়ি- সাংঘাতিকভাবে অসহনীয় হয়ে ওঠে একজন বেকারের কাছে। বেকারত্ব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়! যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজারেরও বেশি লোকের ওপর গবেষণা চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন যারা কর্মহীন বা বেকারের মতো অলস সময় কাটান অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অভিভাবকের উদ্বিগ্নতায় বেকারের হতাশা বৃদ্ধি: মূর্খ ছেলেটা বেকার হলে একটা সান্ত্বনা থাকে। ওর পেছনে কোনো ইনভেস্ট নেই। কিন্তু লাখ লাখ টাকা খরচ করে উচ্চশিক্ষা দানের পর যদি ছেলেটা বেকার হয়ে পরিবারের পিঠে চেপে বসে তখন একমাত্র ‘মৃত্যু’ ছাড়া অভিভাবকদের এই ‘আপদ’ থেকে মুক্তির আর পথ থাকে কি? আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও দু:সহ বেকার যিন্দেগী যাপনেও অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। মেধাবী ছাত্র হিসাবে সন্তানের সামাজিক পরিচিতির কারণে যে বাবা মা গর্ববোধ করতো তারাও নিজের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়েন। দেশ ও সমাজের উচ্চ পর্যায়ের কোন কর্তা ব্যক্তির সামনে এসব বেকার গিয়ে হাজির হলে কেউ ‘দূর হও’ বলে তাড়িয়ে দেন আর কেউ বড়জোর ‘আহারে’ বলে একটি নি:শ্বাস ফেলেন মাত্র। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সোশ্যাল বিজনেস ধারণার উদ্ভাবক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তরুণরা নতুন ব্যবসা ও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তহবিলের সংকট হবে না। সামাজিক ব্যবসা দিয়ে সামাজিক সমস্যা দূর করা যাবে। তরুণদের স্বপ্ন ও উদ্যোগ নিয়ে বেকারত্ব দূর করতে হবে।’ কেউ কেউ বলেন দেশে জনসংখ্যা বেশি তাই দেশে বেকারত্ব বাড়তেছে। অথচ অর্থনীতির কোন তত্ত্বে বলা হয়নি জনসংখ্যা বাড়লে বেকারত্ব বাড়ে। যদি সরকার এই অধিক জনসংখ্যাকে সম্পদে রুপান্তর করতে পারতো, চাহিদানুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারতো তাহলে জনসংখ্যাকে সমস্যা মনে হতোনা, বেকারত্বও থাকত না।
বেকারত্বের কারণ
সুযোগের অভাবে বেকারত্ব: বেকারত্ব থাকায় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও আজ আমাদের তরুণদের মাঝে হতাশা নামক এক কাল ছায়া ছেয়ে গেছে। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ ) দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক হাই ইউনিভার্সিটি এনরোলমেন্টে, লো গ্রেজুয়েট এমপ্লয়মেন্ট শীর্ষক এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বেকার। অনেক বেকার তরুণেরা কোন কর্মসংস্থান করতে না পেরে অন্ধকার জগতে পা বাড়ায়। মাদকাসক্ত হয়, নানান অপকর্ম করে, সমাজের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হয়। অর্থসংকটের একদিক যেমন বেকারত্ব, তেমনই অপর দিকটা হল আধা বেকারত্ব৷ আধা বেকারত্ব অর্থাৎ যোগ্যতার চেয়ে নীচু ধরনের কাজ বা পার্টটাইম কাজ বা অল্প মাইনের কাজ৷ প্রধানত উচ্চ শিক্ষিতরাই এই ভিন্ন বেকারত্বের শিকার৷ দেশের সেরা ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েট হয়েও মাসের পর মাস বেকার থাকা, হাজারো আপ্লিকেশন পাঠিয়ে মাত্র একটা কি দুটো ইন্টারভিউর ডাক এ সবই এখন সাধারন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ পাবলিক ইউনিভার্সিটির পাঠ্য বিষয় ও বিভাগের ফিরিস্তি দেখলে মনে হয় তারা এখনও অন্য জগতে বাস করেন৷ কারণ নানা ধরনের বিষয়ে পাড়শোনার সুযোগ থাকলেও এগুলি নিয়ে ফিল্ডে চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব৷ ড. ইউনুস এজন্যে আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার দোষারোপ করে বলেন, ‘পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই ভুল। আমরা চাকরিপ্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের তৈরি করছি। মানবিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে এটি লজ্জার। চাকরি মানে মানুষকে ছোট করা। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় যে যত উপরে উঠছে, সে তত চুষে খাচ্ছে। বেকার যুবকদের দিকে তাকালে আমার খুব কষ্ট হয়। অন্যের অধীনে কাজ করার চেয়ে নিজের কাজে সম্মান অনেক বেশি। তরুণরা লেখাপড়া শিখেও বেকারত্বের শিকার। এটি তাদের দোষ নয়। আমাদের অর্থ ও সমাজ ব্যবস্থার কারণে এটি হয়েছে। বিদ্যমান অর্থকাঠামো তাদেরকে সে সুযোগ দিচ্ছে না। সমাজ বেকারকে পরিত্যক্ত হিসেবে বিবেচনা করে। সুযোগ না দিয়ে একজন যোগ্য মানুষকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।’

শ্রমবাজারের সঙ্গে সঙ্গতিহীন শিক্ষা: শ্রমবাজারের সঙ্গে সঙ্গতিহীন শিক্ষা ব্যবস্থাকেই বেকারত্বের জন্য দায়ী করা হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক, অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত মনে করেন, প্রতিবছরই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। তাই শিক্ষার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক নীতি এবং অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির আলোকে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় না করলে এ সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে। খাপছাড়া উচ্চশিক্ষা বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা সাহিত্যে স্নাতক হয়েও ব্যাংকে চাকরি করছেন অনেকে। সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনার পর প্রশিক্ষণ নিয়ে আইটি খাতে কাজ করছেন এমন সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আবার প্রকৌশলী হয়েও সরকারের প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োজিত আছেন অসংখ্য কর্মকর্তা। বাংলাদেশে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এ শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে চাকরির বাজারে বিরাজ করছে নাজুক পরিস্থিতি। বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট সেক্টর: অ্যান অ্যাসেসমেন্ট অব স্কিলস ইন দ্য ফরমাল সেক্টর লেবার মার্কেট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকলেও কলা ও মানবিক, প্রকৌশল ও কারিগরি, সমাজবিজ্ঞান, কৃষি শিক্ষার প্রতি ঝুঁকছে দেশের শিক্ষার্থীরা। আবার চাহিদা থাকলেও বিজ্ঞান, সাধারণ শিক্ষা, ব্যবসায় প্রশাসন, চিকিত্সা কিংবা লোকপ্রশাসন বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। ফলে খাপছাড়া এ শিক্ষাব্যবস্থা বাড়াচ্ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে বেশি ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছে কলা ও মানবিক শাখায়। অথচ চাকরি বাজারে এর চাহিদা মাত্র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ এ দুই বিভাগে বাড়তি শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে বিজ্ঞান শিক্ষায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর চাহিদা থাকলেও অধ্যয়নরত মাত্র ৮ শতাংশ। ফলে বিজ্ঞান শিক্ষায় এখনো ঘাটতি রয়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর। এছাড়া প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রয়োজন হলেও শিক্ষার্থী রয়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে এ খাতে বাড়তি শিক্ষার্থী ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আবার ব্যবসায় প্রশাসন শাখার জনবল প্রয়োজন ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ। অথচ এ বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে চাকরির বাজারে এ শাখায় শিক্ষার্থীর ঘাটতি রয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ চাহিদার বিপরীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এ শাখায় ঘাটতি রয়েছে ১৫ শতাংশ। তবে সমাজবিজ্ঞানে ১ দশমিক ৬ শতাংশ চাহিদার বিপরীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানে বাড়তি শিক্ষার্থী রয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া কৃষিতে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ চাহিদার বিপরীতে শিক্ষা নিচ্ছে ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ হিসাবে কৃষিতে শিক্ষার্থীর হার চাহিদার চেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। ঘাটতি রয়েছে চিকিত্সা ও লোকপ্রশাসন বিভাগেও। ১ দশমিক ৫ শতাংশ চিকিত্সকের চাহিদা থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। ফলে ঘাটতি রয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। আর লোকপ্রশাসনে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ চাহিদার বিপরীতে শিক্ষার্থী রয়েছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

পদ্ধতিগত ত্রুটির নিষ্ঠুর খেসারত : ড.ইউনূস বলেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও পুঁজিবাদী কাঠামো গোটা দুনিয়াকে হতাশ করেছে। মানুষে মানুষে আয়ের বিরাট পার্থক্য। বিশ্বে ৮৫ ব্যক্তির যে ধন সম্পদ আছে, পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যার সব সম্পদ যোগ করলেও সেই পরিমাণ সম্পদ নেই। এ পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে যিনি যত বেশি উপরে আছেন, নিচের জনকে তিনি তত বেশি চুষছেন। বিশ্ব জুড়েই দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সমস্যা রয়েছে। বিদ্যমান পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাঠামো থেকে বের হওয়া ছাড়া মুক্তি মিলবে না। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই লাখো শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করলেও শ্রমবাজারে তাদের চাহিদা নেই। শিক্ষার গুণগত মানের অভাবের কারণেই শিক্ষা জীবন শেষে বেকার থাকছেন তারা। চাকরির বাজারে যে ধরনের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করা হয়, প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর সে ধরনের যোগ্যতা নেই। তবে কারিগরি ও বিশেষায়িত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চাকরির বাজারে ভালো চাহিদা আছে। আবার অনেক স্নাতকের যোগ্যতা ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। খোদ ইউজিসির ২০১২ সালের প্রতিবেদনেই এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘যদিও সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত কারিকুলাম উন্নত মানের, কিন্তু কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, বিশেষ করে কতিপয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থাৎ যদিও উচ্চশিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, তবু শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।’

অদক্ষতা ও প্রযুক্তির পরিবর্তন: রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) যৌথ আয়োজনে 'ট্রেড লিবারেলাইজেশন ইন বাংলাদেশ: ইমপ্লিমেন্টেশন ফর অ্যামপ্লয়মেন্ট' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছিলেন,বাণিজ্য উদারীকরণ নয়, বরং অদক্ষতা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। সিপিডির সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা করা হয়, সাধারণভাবে বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। বর্তমানে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের হার খুবই কম। বাণিজ্যে উদার নীতির কারণে এই হার বাড়ছে না।

বিনিয়োগ হ্রাস ও কর্মসংস্থানের অভাব: রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। অবরোধের কারণে শিল্প-কলকারখানাসহ ছোটবড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ কমে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রকটাবস্থায় নতুন কর্মসংস্থান হয়না, বরং চাকরিচ্যুত হয় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। অবরোধ আর হরতালে মারাত্মক অর্থকষ্টে পড়ে দেশের শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষ। নির্মাণ, পর্যটন, পোলট্রি, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও তৈরি পোশাকশিল্প খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থনীতির খাতগুলো বিপর্যস্ত হওয়ায় লোকসান এড়াতে অনেক শ্রমিক বিদায় করে দেন শিল্পোদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খোদ রাজধানীতে ছোটবড় ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অস্থায়ী হকার্স এবং টং দোকানের সংখ্যা এক লাখ ৭৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি। যেখানে সরাসরি আড়াই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ বিপুল জনশক্তির অধিকাংশই পুঁজি ভেঙে খেয়ে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে দেশের দুই হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অনেক পাটকল, চিনিকল, বস্ত্রকল এবং কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ আছে। কয়েক শ ঢালাই কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। গত ২০ বছরে আড়াই লাখ তাঁতি বাধ্য হয়ে পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। বার্ড ফ্লু সংক্রমণের ফলে দেশের লক্ষাধিক পোলট্রিশিল্পে নিয়োজিত কয়েক লাখ মানুষ কর্মহীন এবং তাদের পুঁজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিডরকবলিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি, উচ্ছেদ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ফলে সারা দেশে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন প্রায় ছয় লাখ লোক। এদের মধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে হকারের সংখ্যাই প্রায় পাঁচ লাখ। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রায় এক লাখ জনশক্তি।

বেকারত্ব নিরসনে করণীয়
অন্যের কাছে চাকরি চাওয়ার প্রবণতা ত্যাগ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সব সমাজেই সমস্যা-সংকট রয়েছে। তবে কোন সমস্যা স্থায়ী হলে শান্তি ও উন্নয়ন অর্জনের পথ প্রবলভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। আমাদের নিজেদের সমস্যাকে নিজেরাই চিহ্নিত করে তা সমাধানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সবচেয়ে বড় সাহস ও শক্তি আছে তারুণ্যের। আমাদের তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনা ব্যবহার করতে হবে। তরুণদের বড় সমস্যা বেকারত্ব। এ বেকারত্ব সব জায়গায় রয়েছে। একদিন পৃথিবীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন বেকারত্ব বলে কিছু থাকবে না। বাংলাদেশে চাইলেইতো চাকরি পাওয়া যায় না। চাকরি পাওয়া মানে, শুধু সময় দেয়া নয়। এর জন্য টাকাও লাগে। এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ, দশ লাখ টাকা দেয়া লাগে। এটি এখন সবাই জানে। টাকা দিয়ে চাকরি পেতে হলে টাকা দিয়ে ব্যবসা করাই ভালো। তখন তরুণ চাকরি পাওয়া নয়, চাকরি দিতে পারবে। সমাজে একটি মানুষও বেকার থাকবে না এমন একটি সংস্কৃতি চালু করতে পারলে দেশকে অনেক দ্রুত এগিয়ে নেয়া যায়। কেন মানুষ অন্যের কাছে চাকরি চাইবে। কেন মানুষ বেকার থাকবে। অন্যের কাছে চাকরি চাওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করতে পারলেই মানুষ তার নিজের শক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। যেটা নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি না সেটা কখনো হয় না। যেটা নিয়ে স্বপ্ন দেখি সেটাই বাস্তবায়িত হয়। আমরা প্রত্যেকে ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন না দেখে চাকরি নেয়ার স্বপ্ন দেখি। এর মধ্য দিয়ে আমরা নিজের শক্তিকে খাটো করে দেই।

বেকারত্ব দূরিকরনে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন : রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিত ‘কার্যকর উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব: ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে দারিদ্র, অতি দারিদ্র এবং বেকারত্ব প্রধান বাধা। এসব বাধা মোকাবেলা করতে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।’ ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সফল মৎস্য চাষিদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘এখন মাছ চাষ করার উপযুক্ত সময়। মাছ চাষ করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।’ সমস্যাটা হলো শিক্ষিত কেউ গ্রামে থেকে কৃষি কাজ করবেন, খামার করবেন- এর মাধ্যমে যদিও ভাল ইনকাম করবেন তবু গ্রামের লোকজন তাকে অবজ্ঞা করবে।ঢাকায় চাকরি করে যে বেতন পাবে তাতে খরচ শেষে সঞ্চয় করতে পারবেনা তবু গ্রামে নয় ঢাকায় থাকতে হবে, খামার নয় চাকরি করতে হবে। অনেকে বিদেশে অনেক নিম্ন মানের কাজ করে কিন্তু দেশের ভিতরে তারাও কেউ নবাবজাদা, কেউ জমিদারপুত হয়ে সাহেবী যিন্দেগী যাপন করতে চান। কেউ যদি ঢাকায় থেকে পঁচিশ হাজার টাকার চাকরি করে আর আরেকজন যদি কৃষি খামার করে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা আয় করে তবে বিয়ের বাজারে ঠিকই চাহিদা বেশী হবে চাকরিজীবীর।

সামাজিক ব্যবসার সম্প্রসারণ: শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসার ঘটলে কলকারখানা গড়ে উঠবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। গ্রামে গঞ্জে কুটিরশিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যায়। তাছাড়া মাছের চাষ, হাঁস-মুরগির খামার, পশুপালন ও ফলের চাষ কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে দেশের অর্থনীতি। আমাদের দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৯৫ শতাংশ আর সরকারি খাতে মাত্র ৫ শতাংশ। আমাদের দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থানশীল বেসরকারি খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে পোশাকশিল্প, আবাসন, কৃষি, পরিবহন, পোলট্রি ও ডেইরিশিল্প ইত্যাদি। এ ছাড়াও আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থান খাতসমূহ বুটিকশিল্প, ফিশারিজ, পোলট্রি খামার, ডেইরি ফার্ম, কম্পিউটার ট্রেনিং অ্যান্ড সার্ভিসিং, মোবাইল সেন্টার, বিকাশ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সবজি ও ফল চাষ প্রভৃতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দেশের মোট কর্মজীবী মানুষের ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের যেমন : পরিবহন, হোটেল রেস্তোরাঁ, ডেকোরেশন ইত্যাদি। আর মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। আমাদের দেশে ইনফরমাল সেক্টরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এ সেক্টরই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, আয় বৈষম্য ও বেকারত্ব দূর করতেই সামাজিক ব্যবসা। প্রচলিত ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো যার অর্থ নেই, তাকে ঋণ দেয় না। এলাকাভিত্তিক সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন করতে হবে। সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করে তরুণরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করবে, এ তহবিল থেকে তাদেরকে সহায়তা করতে হবে।

সরকারী উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি: বেকারত্ব নিরসনে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। আমরা বেকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই, না কি শিক্ষিত বেকারে ভারাক্রান্ত দেশ চাই-এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য এখন সময়ের দাবি। জনশক্তির উন্নয়নে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। হস্তশিল্প, কাঠের কাজ, বেতের কাজ, বাঁশের কাজ, মাছের চাষ, হাঁস-মুরগির খামার, পশুপালন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, লেদ মেশিন স্থাপন, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, হোটেল সংক্রান্ত ট্রেনিং, চুলকাটার ট্রেনিং, দর্জি, কলকারখানার কাজ, সেলসম্যানশীপ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিপুল বেকারদের শ্রমশক্তিতে পরিণত করা যেতে পারে। সর্বজনীন শিক্ষাকে নিশ্চিত করতে হবে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, আত্মকর্মসংস্থান সংক্রান্ত শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম। রাস্তা ঘাট, বৃক্ষরোপণ, হাট-বাজার উন্নয়ন, কুটিরশিল্প ও কৃষি খামার স্থাপন ইত্যাদি সংক্রান্ত কার্যক্রম হাতে নিলে আপনা থেকেই বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চাই বিনিয়োগ : দেশের রপ্তানি খাতে নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। সরকারি খাতে জনপ্রশাসনে ব্যয় এত বেড়ে গেছে যে সেখানে ব্যাপক পরিমাণে নতুন কর্মী নিয়োগ করা সরকারের জন্য কঠিন। আবার সরকারি চাকরির বয়স বাড়ানোয় নতুনদের ঢোকার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। কর্মসংস্থানে কৃষির অংশীদারি কমছে। আর মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ বাড়ছে। ফলে সেখানেও নতুন করে বাড়তি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সুযোগ কমছে। বিনিয়োগ হলেই কর্মসংস্থান হয়। এ জন্য বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সম্ভাবনা থাকার পরও বিনিয়োগ আশানুরূপ না হওয়ার পেছনে অবকাঠামো সংকটকে দায়ী করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) তৈরি করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন এবং পরে ছয় লেন করা, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিসহ শিল্প সহায়ক প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে এবারের বাজেটে। বেসরকারি খাত যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। এটা হলে বিনিয়োগ বাড়ানোও সম্ভব হবে। এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। দেশে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে না। বড় বিনিয়োগ না হলে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে না। বেকারের সংখ্যা কমাতে হলে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদে লোক নিয়োগ করতে হবে।

উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উদ্যোগ বৃদ্ধি: ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘বেকারত্ব নকল জিনিস। সৃজনশীল মানুষ কখনও বেকার হতে পারে না। প্রত্যেক মানুষ একটা অনাবিষ্কৃত শক্তির আধার। বেকারত্ব বিদ্যমান রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট। বেকারত্বের মাধ্যমে সমাজের লোকদের বিকল করে রাখা হয়েছে। সমাজ তাকে কাজ করতে দেবে না। নিশ্চয়ই সমাজের কোথাও কোনো গোলযোগ আছে বলে সমাজের কোটি কোটি মানুষ বেকার। বেকারত্ব মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, সমাজ ব্যবস্থার সমস্যা। দুনিয়ার সব মানুষই উদ্যোক্তা গুণসম্পন্ন। উদ্যোক্তা হওয়ার গুণ নেই এমন মানুষ দুনিয়ায় নেই। কেউ কেউ নিজের জীবনে এ শক্তির সন্ধান পাওয়ার সুযোগ পায়, আর বেশিরভাগ মানুষকে এ ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে দেয়া হয় না। যেমন- গরিব মানুষদের। গরিব মেয়ে মানুষ হলে তো কথাই নেই। তাদের বোঝানো হয়, তোমাদের জন্ম হয়েছে অন্যের হুকুম তামিল করার জন্য। হুকুম দেয়ার ক্ষমতা তোমাদের নেই। হাজার হাজার বছর ধরে একথা শুনতে শুনতে তারাও বিশ্বাস করে এসেছে যে, কথাটা সত্যি। তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ, পুরুষ, নারী, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী, দরিদ্র যে কোনো মানুষ সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতা রাখে। প্রত্যেক মানুষের আছে মৌলিক সৃষ্টিশীলতা। এ সৃষ্টিশীলতাকে কেন্দ্র করেই বেকারত্ববিহীন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর হবে। বেকারত্বের চরম হতাশা, বিষণ্নতা এবং মানবতার অবমাননা থেকে মানুষ অবশেষে মুক্ত হবে। সেদিন 'বেকার' শব্দটির আর কোনো প্রয়োগ থাকবে না। তখন মানুষ বুঝতে অক্ষম হবে বেকারত্ব মানে কী, এটা কোন ধরনের পরিস্থিতি। কেন একজন মানুষ বাধ্য হবে নিজের সৃজনশীলতার বর্ণিল প্রকাশকে অবরুদ্ধ রাখতে? যেদিন বেকারত্ব বলে কিছু থাকবে না, সেদিন মানুষের নবজন্ম লাভ হবে। নতুন আশা, নতুন সীমাহীন সম্ভাবনার জগতে প্রবেশ করবে মানুষ। এ নতুন মানুষকে ঘিরে নতুন অর্থনীতির জন্ম হবে। প্রত্যেক মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ দ্রুতলয়ে ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকবে। নিজের জীবন ধারণের জন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মানুষ নিজেকে মুক্ত করে নিজের কৃতিত্বে নিজেকে গৌরবান্বিত বোধ করবে।’

পাওয়া নয় দেয়ার মানসিকতা বাড়ানো: ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমাদের দেশে যেন চাকরি পাওয়াটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা এর পরিবর্তন চাই। ঘুষের অর্থে ব্যবসায়ের তহবিল সৃষ্টি করে তা দিয়ে অনায়াসেই বেকারত্ব ঘুচানো সম্ভব।বাংলাদেশে চাকরির জন্য যে টাকা ঘুষ দেয়া হয় তা একত্রিত করে বিনিয়োগ করা হলে বিশাল ব্যবসা ক্ষেত্র তৈরি হবে। আর তা করা হলে উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন যুবদের চাকরির পেছনে ছুটতে হবে না। বরং তখন প্রত্যেক যুবকই হবে চাকরিদাতা। মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পাল্টে দেয়া যাবে। বেকারত্ব সমাজের সৃষ্টি। আমাদের জীবনের একমাত্র চাওয়াই হলো শুধু পাওয়া। কিন্তু দেয়ার মানসিকতা আমরা ভুলে গেছি। তাইতো আমাদের এতো এতো সামাজিক সমস্যা। দেয়ার মানসিকতা থাকলে পাওয়া যায় বেশি। চাকরি পাওয়ার অর্থ হলো একজন মানুষকে অতি ক্ষুদ্র করে দেয়া। অথচ চাকরি না করে উদ্যোক্তা হলে যে কোনো যুবক সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। মানুষ অনেক বেশি সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। চাকরি পেলে সে সম্ভাবনা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। তোমরা চাকরির পেছনে সময় নষ্ট করো না। ’

ব্যবসা-বাণিজ্যকে গুরুত্ব প্রদান: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)'র তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের ২ হাজার কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি ১শ' ৩৪টি পাটকলের মধ্যে এখন ৩৩টি বন্ধ। এ ছাড়া ১৬টি চিনিকল, ১৪টি বস্ত্রকল, ২২টি কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিসহ বন ও পরিবেশ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইস্পাত খাতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ৩শ'টি ঢালাই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। গত ১৫ বছরে আড়াই লাখ তাঁতি বাধ্য হয়েছেন তাদের পেশা ছেড়ে দিতে। এধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেয়া যাবে না। ব্যবসা বাণিজ্যকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যা য়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমাদের সমাজের প্রবণতাই হল ব্যবসা-বাণিজ্যকে পরিবেশের শত্রু হিসেবে চিন্তা করা। ব্যবসাকে এভাবে দোষ দেওয়াটা অবশ্য অবাক করা কোন ব্যাপার নয়। বিশ্বের সমস্ত ভুলের দায় ব্যবসার ঘাড়ে তুলে দেওয়া বেশ সহজ। এমন ঘটে কারণ বেশিভাগ সময়ই ব্যবসায়ীরা পৃথিবী ও মানুষের কী ক্ষতি হতে পারে তা ভুলে গিয়ে, ব্যবসাকে যতবেশি সম্ভব টাকা রোজগারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। যাইহোক, মনে রাখা উচিত, ব্যবসা আসলে তাই, যা মানুষ ব্যবসাকে দিয়ে করাতে চায়। আপনি যদি মানুষের সমস্যা সমাধান করতে চান, তবে ব্যবসা আপনাকে তা করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু মানুষ ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসাকে এমন পথে পরিচালিত করে যা মানুষের ক্ষতি করে।’

জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো: বাংলাদেশের সবচাইতে বড জনশক্তি রপ্তানিকারক অঞ্চল হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু সেখানেও জনশক্তি রপ্তানীতে বড বিপর্যয়। ভিসা জটিলতার কারণেও অনেক প্রবাসী বাঙ্গলী দেশে ফেরত এসেছেন, কেউ অবৈধ হয়ে গেছেন। জনশক্তি রপ্তনিতে ব্যার্থতা হচ্ছে সরকারের চরম কুটুনৈতিক ব্যার্থতা। এই ব্যার্থতার ভার বহন করে চলছেন দেশের বেকার যুবকরা। আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার অবকাঠামো আরো পরিবর্তন করা দরকার এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীল ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের উৎপাদণশীল প্রতিষ্ঠানও খুবই কম। তাই উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান বাডাতে হবে, এই জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি: ডক্টর জাফর ইকবাল বলছেন, ‘শিক্ষা এবং গবেষণার জন্যে সরকার যে পরিমাণ টাকা খরচ করে সেটা একটা কৌতুকের মতো! এই দেশের উৎসাহী ছেলেমেয়েরা প্রতি বছর বাইরে পিএইচ-ডি করতে যায়। এদের অনেকে এত উৎসাহী, এত সৃজনশীল, এত প্রতিভাবান যে তাদের একটা ছোট অংশও যদি দেশে ফিরে আসত তাহলে দেশে মোটামুটি একটা বিপ্লব ঘটে যেত”। যুক্তরাজ্যের রয়েল সোসাইটির উপাত্ত অনুসারে ২০১১ সালের গবেষণা খাতে কতগুলো দেশের মোট খরচের পরিমান হলো এরকম (মার্কিন ডলারে)। ব্রাকেটে প্রতিটি দেশের গবেষণায় বরাদ্ধ জিডিপির শতকরা অংশও তুলে ধরা হলো। ইথিওপিয়া ১০ কোটি (০.১৭%), ভিয়েতনাম ৫০ কোটি (০.১৯%), মালোয়শিয়া ২৬০ কোটি (০.৬৩%), পাকিস্তান ৩৬৭ কোটি (০.৬৭%), সিঙ্গাপুর ৬৩০ কোটি (২.২%), তুরস্ক ৬৯০ কোটি (০.৭%), ভারত ৩৬১০ কোটি (০.৯%), দক্ষিন কোরিয়া ৫৫৮০ কোটি (৩.৭%), চীন ২৯৬৮০ কোটি (১.৯৭%) আর যুক্তরাষ্ট্র ৪০৫৩০ কোটি (২.৭%) মার্কিন ডলার খরচ করেছে। বেদনাদায়ক সত্য হলো আজ বাংলাদেশ জিডিপির ০.০২% চেয়েও কম খরচ করছে গবেষণায়। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযুগী করা: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার নিশ্চয়তায় এখন কী ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন সেদিকে নজর দেয়ার সময় এসেছে। কর্মসংস্থানের চাহিদা ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে একটি জাতীয় সমন্বয় (ম্যাচিং) প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সমন্বিত একটি নীতিমালার আলোকে শিক্ষালয় স্থাপনের অনুমোদন ও তা সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। এসিআই গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (অ্যাগ্রোবিজনেস) ফা হ আনসারী বলেন, সাধারণ কিছু পদের বিপরীতে কয়েক গুণ আবেদন জমা পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে আবার আবেদনকারীর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। দেশের ডিগ্রিগুলো বিষয়ভিত্তিক না হওয়ায় নিয়োগদাতা হিসেবে দক্ষ কর্মী বাছাই করতে হিমশিম খেতে হয়। আবার শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো ব্রড বেজড থাকায় শিক্ষার্থীরা পেশাগতভাবে শতভাগ দক্ষ হতে পারছে না। এ ধরনের অসামঞ্জস্যতা দূর করতে সিলেবাসে পরিবর্তন আনাসহ প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

সামাজিক ব্যবসা প্রসঙ্গ
ড. ইউনূস তার নতুন ধারণা Social Business এর তাত্ত্বিক রুপ দিয়েছেন, Building Social Business: The New Kind of Capitalism that Serves Humanity’s Most Pressing Needs’ বইটিতে। সামাজিক ব্যবসার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এক বা একাধিক সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখা। সামাজিক ব্যবসার ৭টি মূলনীতি হচ্ছে, ১. সামাজিক সমস্যার উদ্দেশ্য সমস্যার সঠিক সমাধান, মানুষের উপকার করা, কোনো ব্যক্তিগত লাভ না নেয়া। ২. সামাজিক ব্যবসায় যথাযথ পুঁজি বিনিয়োগ ও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক পর্যারয়ে রাখা। ৩.উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী কোনো লাভ নেবেন না। বিনিয়োগকৃত অর্থ শুধু পর্যাষয়ক্রমে ফেরত নিতে পারবেন। ৪. বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরৎদানের পর কোম্পানির লাভ ঐ কোম্পানির সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য খরচ হবে। ৫. পরিবেশকে দূষিত করে কোন ব্যবসা করা যাবে না। ৬. প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের বেতন ভাতা হবে ন্যায়সঙ্গত, বাজার চাহিদা অনুযায়ী। ৭. এ ব্যবসায় উদ্যোক্তারা আনন্দের সাথে প্রকল্প গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন।

উপসংহার:
বেকারত্বের এই সমস্যা-সংকট দেশে একদিনে তৈরি হয়নি। এই মূহূর্তে বেকারত্ব নিরসন যেমন অপরিহার্য, তেমনি ভবিষ্যতে বেকারত্ব কোন পর্যায়ে পৌছতে পারে, তার নিরিখে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণও সমভাবে প্রয়োজনীয়। বেকারত্বের হার বাড়ছে, এমন ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই যুবা এবং তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৪২ ভাগই বেকার। পরিল্পনা কমিশন ও জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনডিপির গবেষণা অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে কর্মক্ষম যুবক-যুবতীর সংখ্যাই দাঁড়াবে সাড়ে তিন কোটি। বেকারত্বের হার বর্তমান অবস্থায় রাখতে হলে এ সময়ের মধ্যে এক কোটির উপর যুবক-যুবতীকে চাকরি দিতে হবে। আমাদের অর্থনীতি, বেকারত্ব এবং আই এমএফ ও দাতাদের দ্বারা আমাদের “মুরগী” বানানোর প্রক্রিয়া যদি আমরা বুঝি এবং আমরা যদি জেগে না ঘুমাই- তাহলে আমাদেরও উচিৎ কর্মসংস্থান ও সামাজিক খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়াগ নিশ্চিত করে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী করা। এর জন্য প্রয়োজনে ঘাটতি বাজেট অনুসরণ করা এবং উদার আমদান নীতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা। বেকারত্ব শুধু একটি সরকারকে নয়, একটি দেশকেও বিপদে ফেলতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ইন্ধনদাতার অভাব হবে না। তাই আসুন আমরা সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেই, সামাজিক ব্যবসায় উৎসাহী হই এবং বেকারত্বের অসহায়ত্বমুক্ত সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ে তুলি।
collected from: somewhereinblog
On 3:09 AM in

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে ডিজিটাল কানেকটিভিটির আওতায় আনা হবে। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বুধবার ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প অনুমোদনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দিতে এবং সরকারের সাথে আরো বৃহদাকারে জনগণের সংযোগ স্থাপনে আজ এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন হলো। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সারাদেশকে আরো বেশী ডিজিটাল কানেকটিভিটির আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হলাম। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে এই সংযোগের আওতায় আনা হবে। গত ২২ জুলাই ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প অনুমোদন করলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সামাজিক অগ্রগতি এবং জনগণের সন্তুষ্টি অর্জন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি দক্ষতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণও সরকারের অভিষ্ট লক্ষ্য। তাই আমরা ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত জনগণকে ইন্টারনেট বিশ্বে নিয়ে যেতে চাই, চাই আধুনিক পেশার সঙ্গে সংশ্লেষ ঘটাতে। উল্লেখ্য, সাড়ে ৮ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের ১,২০০ ইউনিয়নকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও ৭ বিভাগ, ৬৪ জেলা, ৬৪ উপজেলা, ৩১৯ পৌরসভা এবং ১০০টি কলেজে (সর্বমোট ৫৫৪টি) বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সেন্টার স্থাপন করা হবে। এই ৭ বিভাগ, ৬৪ জেলা এবং ১০০টি কলেজকে (মোট ১৭১টি) ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। ১০ গিগাবিট পার ইথারনেট এর মাধ্যমে জেলা আইসিটি সেন্টার থেকে বিভাগীয় সদরদপ্তর/ ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারে এবং ইউনিয়ন আইসিটি সেন্টার থেকে জেলা আইসিটি সেন্টারে ব্যকবোন নেটওয়ার্ক ব্যান্ডউইডথ বিস্তৃত করা হবে। ২০০ উপজেলায় উপজেলা আইসিটি সেন্টারের ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক আপ-গ্রেডেশন করা এবং ৬৪টি জেলা আইসিটি সেন্টারে ৬৪টি ব্যাকআপ ব্যাকবোন রাউটার স্থাপন করা হবে। পাইলটিং ভিত্তিতে ২৫০ ক্লায়েন্টের ডেঙ্টপ ক্লাউড চালু, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ঘবঃড়িৎশ গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস বিস্তৃত করা এবং একটি হেল্প ডেঙ্ স্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণের নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত প্রশ্নের সমাধান দেয়া ইত্যাদি বিষয়ও ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। বাংলা গভ নেট ও ইনফো সরকার-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় সব উপজেলাকে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের আওতায় আনা হয়েছে। চালু করা হয়েছে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ৮০০ অফিসে ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা
On 2:59 AM in


বাংলাদেশকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নে মাইলফলক স্থাপনে গত ছয় বছরের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দেশকে বদলে দিতে চান তিনি। ইতিমধ্যেই দেশের অবকাঠামোর ক্ষেত্রে একের পর এক বৃহৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যার বড় অংশ এখন দৃশ্যমান। ২০১৯ সালের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে চান পদ্মা সেতু, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, কর্ণফুলীতে টানেল, ঢাকা-চট্টগ্রামে নতুন নতুন ফ্লাইওভার, ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের সংযোগে চার লেন, উড়ালসড়ক, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অর্থনৈতিক জোন, গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনসহ উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর। শুধু তাই নয়, বেসরকারি খাতকেও উৎসাহিত করে উন্নয়নে গতি আনতে চান তিনি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তদারকি করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মনিটরিং সেল। প্রয়োজনে বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে প্রকল্পের। জানা যায়, গত মেয়াদে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার করা উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যানে রাখা হয় বাংলাদেশের ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’-কে। প্রকল্পের কাজ এগিয়েও গেছে অনেকখানি। সব কাজ শেষে ২০১৭ সালের মধ্যে স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ পাঠানো সম্ভব হলে বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। মিলিয়ন ডলার বেচে যাবে টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিফোন, রেডিওসহ অন্যান্য কাজে এতদিন দেওয়া ভাড়া থেকে। আবার বিদেশিদের কাছে ভাড়াও দেওয়া যাবে। বাংলাদেশের আরেকটি বৃহৎপ্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ৬০ বছর আগের এই পরিকল্পনা একেবারে বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়টিও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যানে বৃহৎ অংশ জুড়েই আছে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের বাণিজ্যের হাবে পরিণত হতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের পর দ্বিতীয় অগভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হচ্ছে পায়রায়। সূত্র মতে, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির চিত্র পাল্টে দিতে একসঙ্গে বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আছে শেখ হাসিনার মাস্টারপ্ল্যানে। একসঙ্গে পাঁচটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজ শুরুও করা হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই ও আনোয়ারা, সিলেটের মৌলভীবাজার ও বাগেরহাটের মংলায় প্রথম চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে বিদেশিদের টাকায়, পঞ্চমটি হবে সিরাজগঞ্জে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। এ ছাড়া চীন, জাপান ও ভারতের মতো দেশের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক এলাকার পরিকল্পনাও আছে মাস্টারপ্ল্যানে। ইতিমধ্যেই দেশের সমুদ্র তীরবর্তী জেলা কক্সবাজারকে নিয়েও করা হয়েছে মহাপরিকল্পনা। যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে জোর দেওয়া সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে সমুদ্র ভিত্তিক ব্লু-ইকোনমি। লক্ষ্য সাগরে বিশাল জলসীমায় থাকা বিপুল পরিমাণ সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার। আবার এতদিন ধরে থাকা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে সব স্তরে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার
আমরা অনেকেই জানি ফাইভার নামে একটা মার্কেটপ্লেস আছে, আবার হয়তো অনেকেই জানি না। আজ আমি এই ফাইভার মার্কেটপ্লেস নিয়ে কিছু বলবো। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, সবাই কাজ নিয়ে বলে কিন্তু আমি মার্কেটপ্লেস নিয়ে বলবো কেন? কারণ, ফাইভার হতে পারে আপনার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণের সারথী। আমরা অনেকেই অনেক কাজ জানি কিন্তু মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে না জানার কারনে কাজ করতে পারিনা। তাই আমি মনে করি কাজ জানা যতটা জরুরি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জানাটাও ততটা জরুরি। আর ফাইভার সম্পর্কে বলবো কারণ এখানে অনেক ছোট ছোট কাজ করে আপনি অনেক আয় করতে পারেন। এখানে অনেকেই শুধুমাত্র ইমেজ এডিটিং বা ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভের কাজ করে অনেক টাকা আয় করেন। ধারাবাহিকভাবে আমি ফাইভার নিয়ে বিস্তারিত লিখবো। আজ থাকছে তার প্রথম পর্ব………
fiverr_screenshot-216b16809ae989525420e1fab325fd4e

কি কি থাকবেঃ

১. ফাইভার মার্কেটপ্লেস (www.fiverr.com) সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা।
২. ফাইভারে একাউন্ট তৈরি ও গিগ বানানো । (যদিও আমার মনে হয় এটা দেখানোর কোন দরকার নেই। আমরা সবাই একাউন্ট তৈরি করতে পারি। এটা দেখাবো কি দেখাবো না সেটা আপনার ঠিক করবেন)
৩. শেষে থাকবে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার কিছু অব্যর্থ টিপস।
আজ আমি ফাইভার মার্কেটপ্লেস নিয়ে ধারণা দিতে চেষ্টা করব। ফাইভার মার্কেটপ্লেসকে আমরা অনেকেই জেনে বা না উপেক্ষা করি। আজ আমি বলবো ফাইভারকে উপেক্ষা করার কারণ এবং কেন আমদের ফাইভারকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

উপেক্ষার কারণঃ

১. ফাইভার সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব ।
২. ফাইভারকে শুধু $5 এর মার্কেটপ্লেস ভেবে ভুল করা ।

কেন উপেক্ষা করা উচিত নয়ঃ

১. আমি মনে করি ফাইভার হতে অনেকের বিশেষ করে নতুনদের স্বপ্ন পূরণের এবং আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মার্কেটপ্লেস। এখানে অনেক সুযোগ আছে নতুনদের কাজ পাওয়ার । এখানে বিক্রি হয়না এমন কোন কাজ বোধহয় আমরা করি না। আপনি যা ভাল পারেন তা দিয়েই এখানে শুরু করতে পারেন।
২. ফাইভারের স্লোগান ৫ ডলারের হলেও ফাইভার আসলে শুধু ৫ ডলারের নয়। আসল সত্যি হচ্ছে ফাইভা্রে ৫ ডলারের নিচে কোন কাজ নেই।
৩. ফাইভারে বিড করার কোন ঝামেলা নেই তাই বিড করা নিয়ে নতুনদের যে ভয় সেটা থাকছে না। তাছাড়া বিড করার জন্য সময়টাও আপনার ব্যয় হচ্ছে না।
৪. এখানে আপনার বায়ারকে খুজতে হবে না, বায়ার আপনাকে খুজে নিবে। ঠিক বাসায় “টু-লেট” বিজ্ঞাপন দেওয়ার মত। যার বাসা ভাড়া দরকার বাকিটা সেই বুজবে।
৫. ফাইভারের ফিল্টারিং এমনভাবে করা যাতে থাকছে সবার জন্য সমান সুযোগ।
৬. এখানে বিড করার কোন পথ না থাকলেও আপনি বায়ার রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারেন যা এক প্রকার বিড বলার যায়। তারমানে হচ্ছে এখানে দুই ধরণের পথই খোলা থাকছে আপনার জন্য।
৭. ফাইভারে প্রচুর পরিমাণে কাজ পাওয়া যায়। যদি অধিকাংশ কাজই ছোট ছোট কিন্তু ভুলে যাবেন না ছোট ছোট বালুকণা দিয়েই এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
এমন আরও অনেক কারণ আছে যা আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে আপনাকে একধাপ এগিয়ে দিতে পারে। তবে মনে রাখবেন আপনার স্বপ্ন আপনাকেই পূরণ করতে হবে। ক্ষেত্র তৈরি, সামনে অপার সম্ভাবণা কিন্তু আপনি প্রস্তুত তো? যে কোন ক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। ফ্রিলান্সিং ও এর বাইরে নয়। হতাশ না হয়ে এগিয়ে যান, সফলতা আসবেই। আপনার সফলতার পিছনে আপনি ছাড়া আর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। আপনার স্বদিচ্ছা এবং পরশ্রমই আপনাকে এনে দিতে পারে কাঙ্খিত সাফল্য। তাই এগিয়ে যান।
অনেক কিছুই হয়তো বলা হয়নি যা বলা দরকার ছিল। আশা করি পরের পর্বে আসবে। এ বিষয়ে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে কমেন্ট করেন অথবা আমার সাথে সরাসরি ফেইসবুকে যোগাযোগ করতে পারেন।
ফেসবুকে সারাদিন বিনাকারনে আমরা প্রচুর সময় নষ্ট করি। কিন্তু ফেসবুকে ব্যয় করা এ সময়টুকু ব্যয় করে ঘরে বসেই অনেক বড় ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। ঘরে বসেই সম্ভব প্রচুর আয় করা। অনেককেই বিভিন্ন সময় এ ব্যপারে বিচ্ছিন্নভাবে পরামর্শ দিয়েছি। ক্রিয়েটিভ আইটিতেও এসইও কোর্স করানোর সময় সবাইকে ওডেস্ক কিংবা অন্যকোন মার্কেটপ্লেসে কাজ না করে উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করার জন্য সোশ্যালমিডিয়াকে ব্যবহার করে নিজের একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে আয় করার জন্য উৎসাহিত করি। এব্যাপারে বিভিন্ন টিপস সবসময় আমার স্টুডেন্টরা পেয়ে এসেছে।
fcommerce1
ইতিমধ্যে আমার কয়েকজন নারী স্টুডেন্ট সেই অনুযায়ি কাজ করে সফল হয়েছে। হয়ত এখনও বড় উদ্যোক্তা হতে পারেনি এখনও। তবে বড় উদ্যোক্তা হবে একদিন সেই বিশ্বাসটা আমার রয়েছে। সেইরকম কিছু টিপস নিয়ে আমার আজকের এ আর্টিকেলটি। চেষ্টা করেছি, চেকলিস্টের মত করে লেখার।  তবে বড় ধরনের আয় করার জন্য অ্যাডভান্স কিছু জানা থাকতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাডভান্স বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে ১মবারের মত বিশেষ কোর্সও চালু করেছি। যে কোর্স ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে করতে হত। অনলাইনে অনেকে এধরনের কোর্স করেছে, যেগুলোর মিনিমাম ফি ৪০০ ডলার হয়ে থাকে। সেটি সবার জন্য এখন ক্রিয়েটিভ আইটিতেই করার ব্যবস্থা করেছি। সেই কোর্সের বিস্তারিত জানার লিংকঃ http://goo.gl/3rDtjw
ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা প্রচার করার বিষয়ে আমার অন্য একটি আর্টিকেল রয়েছে। সেটিও পড়তে পারেন।
লিংকঃ http://genesisblogs.com/tutorial-2/638

এফকমার্সঃ

ফেসবুকের মাধ্যমে যে ব্যবসা তাকে, এফ কমার্স বলে। টাকা খরচ করে ওয়েবসাইট তৈরির প্রয়োজন নেই এক্ষেত্রে। শুধুমাত্র ফেসবুকে একটি পেজ খুলেই ব্যবসা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে দেশে অনেকেই করছেন এরকম কিছু। বাংলাদেশে এখন পযন্ত যে কয়টি আমার চোখে পড়েছে, সেই অনুযায়ি বলতে পারি, এখন পযন্ত রাজশাহীর খাটি আম, সুন্দরবনের খাটি মধু, জামদানী শাড়ি, বিভিন্ন গিফট আইটেম, ড্রেস সম্পর্কিত প্রোডাক্ট নিয়ে অনেকে ব্যবসা শুরু করেছেন। এ এফ কমার্স ব্যবসা করার জন্য খরচও করার প্রয়োজন হয়না।

১ম ধাপ (ব্যবসা সম্পর্কিত সঠিক নাম বাছাই করে ফেসবুক পেজ তৈরি):

ফেসবুক ফেসবুকে ব্যবসা সম্পর্কিত একটি পেজ তৈরি করতে হবে। পেজের নামটি হবে ব্যবসার নাম। লং টাইম ব্যবসা করার টার্গেট করেই নামটা ঠিক করতে হবে।
facebook

২য় ধাপ (প্রফেশনাল লোগো তৈরি):

ব্যবসা সম্পর্কিত একটি সুন্দর লোগো ডিজাইন করে নিতে হবে। যাকে দিয়ে লোগোটি ডিজাইন করাবেন, তাকে দিয়ে একটি থিম ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

৩য় ধাপ (পেজের জন্য ব্যবসা সম্পর্কিত কভার ছবি তৈরি):

সুন্দর এবং অবশ্যই প্রফেশনাল একটি ফেসবুক কভার ডিজাইন করিয়ে নিন।

৪র্থ ধাপ (পেজে About সেকশনে ব্যবসা সম্পর্কিত তথ্য যুক্ত করা):

ফেসবুক পেজটির About পেজটিতে ব্যবসা সম্পর্কিত তথ্যগুলো ভালভাবে পূরণ করুন।
উদাহরণঃ https://www.facebook.com/JamdaniVille/ এ পেজের About  পেজটি দেখতে পারেন। আরও ভাল কিছু লিখতে পারেন।

৫ম ধাপ (পেজে প্রাথমিকভাবে মেম্বার যুক্ত করা):

পেজটি প্রস্তুত। উপরের ৪টি ধাপের প্রস্তুতির জন্য সময় ২দিনের বেশি ব্যয় করা মোটেই উচিত হবেনা। তাহলে শুরুতেই আপনার পদক্ষেপ ভুল হবে। ৫ম ধাপটিতে, পেজের মেম্বার বাড়ানো শুরু করতে হবে। সবার প্রথমে নিজের ফ্রেন্ড লিস্টের সবাইকে, নিজের কাছের কোন বন্ধুকে অনুরোধ করে, তার ফ্রেন্ডলিস্টের সবাইকে এ পেজে যুক্ত করে নেওয়ার জন্য ইনভাইট করুন। এ পদ্ধতিতেই চেষ্টা করুন পেজে ১০০০ টা লাইক যুক্ত করার।

৬ষ্ঠ ধাপ (পেজে অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি):

এ ধাপটিতে এসেই অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি শুরু করতে হবে। অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি শুরু করলে, পেজ মেম্বারও নিয়মিত বৃদ্ধি পাবে।

কেন অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি করতে হবে?

facebook-commerce-360
মার্কেটপ্লেসের বাইরে গিয়ে অনলাইনে এসব ব্যবসার ক্ষেত্রে, যে ক্রেতা, তার কাছে আপনি (ব্যবসার মালিক) একদম অপরিচিত এবং অবিশ্বস্ত। সুতরাং ক্রেতা কখনও প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার আগে  আপনাকে পেমেন্ট করতে সাহস পাবেনা। আবার আপনি নিজেও পেমেন্ট পাওয়ার আগে অপরিচিত একজনকে প্রোডাক্ট দিতে রিস্ক নিবেননা। যদি ক্রেতা আপনার পরিচিত হত, তাহলে ক্রেতা আপনাকে বিশ্বাস করত ,সেক্ষেত্রে প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার আগেই পেমেন্ট দিতে তার আপত্তি থাকতনা। তেমনি আপনি নিজেও পেমেন্ট বাকি রেখে তাকে প্রোডাক্ট দিতে হয়ত আপত্তি করবেননা। তাহলে দেখা গেল , পরিচিত হওয়াটাই আসল। অনলাইনের মাধ্যমেই এখন মানুষের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। আর এ বন্ধুত্ব তৈরির জন্যই অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। আর অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি হলেই বিশ্বাস এবং আস্থা তৈরি হবে। তখনই ক্রেতা প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার আগেই পেমেন্ট দিতে আপত্তি করবেনা।
কিভাবে এ অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি করবেন, সেটি পরের পর্বে পোস্ট করব।
বিনাকারনে আমরা প্রচুর সময় নষ্ট করি ফেসবুকে।ফেসবুকে  কিন্তু  ব্যয় করা এ সময়টুকু ব্যয় করে ঘরে বসেই অনেক বড় ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। ঘরে বসেই সম্ভব প্রচুর আয় করা। অনেককেই বিভিন্ন সময় এ ব্যপারে বিচ্ছিন্নভাবে পরামর্শ দিয়েছি। ক্রিয়েটিভ আইটিতেও এসইও কোর্স করানোর সময় সবাইকে ওডেস্ক কিংবা অন্যকোন মার্কেটপ্লেসে কাজ না করে উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করার জন্য সোশ্যালমিডিয়াকে ব্যবহার করে নিজের একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে আয় করার জন্য উৎসাহিত করি। এব্যাপারে বিভিন্ন টিপস সবসময় আমার স্টুডেন্টরা পেয়ে এসেছে।
fcommerce1
এবার এ ব্যাপারে সবার জন্য পোস্ট লিখেছি, যার ১ম পর্ব ইতিমধ্যে অনেকেই পড়েছেন।
যারা এখনও পড়েননি, তাদের জন্য আবার এখানে লিংক দিচ্ছি।

ফেসবুকের মাধ্যমে ঘরে বসেই ব্যবসা করার বিস্তারিত টিপস (১ম পর্ব)

আজকের পর্বে মূলত ফেসবুক পেজের লাইক বাড়ানো এবং অ্যানগেজমন্টে বাড়ানো শিখাবো। ফেসবুকে শুধু লাইক বেশি থাকলেই আসলে সেল হবে এটা অনেকের ধারণা। যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ফেসবুক পেজে অ্যানগেজমেন্টটা সবচাইতে জরুরী।

কিভাবে অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধি করবেন?

- প্রতিদিন ফেসবুক পেজটিতে ৩টি করে পোস্ট দিবেন। কি পোস্ট করবেন, সেগুলো নিয়ে আগে কিছুটা ব্রেন স্ট্রোমিং করে নিন। ব্রেন স্ট্রোমিং করার ব্যপারে কিছু পরামর্শ দিতে পারি। ধরি, আপনার ব্যবসাটি হবে দেশীয় ভেজাল মুক্ত খাবার, যেমনঃ ফরমালিন মুক্ত আম। তাহলে ফরমালিনের আপনার কন্টেন্ট গুলো হবে, ফরমালিনের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়, আম নিয়ে বিভিন্ন টপিকসও এখানে যুক্ত হতে পারে।
এবার তাহলে এ সম্পর্কিত অনলাইনে কি কি পোস্ট আছে সেগুলো খুজে বের করে আগে সব লিস্ট করে রাখুন।
- লিস্ট করে রাখা সব পোস্টগুলো থেকে এবার কন্টেন্ট তৈরি করুন। ফেসবুকের কন্টেন্ট সাইজ বেশি বড় না হওয়াটাই ভাল। ব্লগের কনটেন্ট হতে হয় বড়। অনলাইন থেকে খুজে বের করা আর্টিকেলগুলো থেকে নিজের মত করে কন্টেন্ট তৈরি করুন। কপি কন্টেন্ট না করে নিজের মত করে কন্টেন্ট উপস্থাপন করুন। কপি কন্টেন্ট ব্যবহার করলে ব্রান্ডিংয়ে কম সফল হবেন। এমন কন্টেন্ট তৈরি করুন, যা মানুষের জন্য উপকারী হবে। মানুষের উপকারী তথ্য দিয়ে কোন পোস্ট করলেই, পেজের মেম্বাররা আপনাকে বন্ধু মনে করা শুরু করবে, আপনার উপর আস্থা শুধুমাত্র তখনই তৈরি হবে।
(শুরুতে কখনই বিজ্ঞাপন টাইপ কোন পোস্ট করবেননা, তাতে বন্ধুত্ব তৈরি হবেনা, দূরত্ব তৈরি হবে।)
- প্রতিদিনের ৩টি পোস্টের মধ্যে একটি পোস্ট কুইজ টাইপ হতে পারে। কুইজ টাইপ পোস্টে কমেন্ট এবং লাইক প্রচুর পাওয়া যায়।
- সপ্তাহের একদিন ইনফোগ্রাফিকস ধরনের পোস্ট করতে পারেন। ছবি সম্পর্কিত পোস্টগুলো প্রচুর শেয়ার হয় এবং অ্যানগেজিংও প্রচুর বৃদ্ধি পায়। আমি আমার একটি ফেসবুক পেজে (https://www.facebook.com/dr.foyzunnahar) এ কাজটি করেছিলাম। সেই রকম একটি ইমেজ এখানে শেয়ার করছি।
nahar
ইমেজটি লক্ষ্য করলে দেখবেন, সেখানে মানুষের জন্য উপকারী তথ্য দেওয়া আছে এবং ছবিটি দেখতেও আকর্ষণীয় হওয়ার কারনে অবশ্যই এটা শেয়ার হবে। ছবিটির নিচের ফেসবুক পেজের নাম থাকার কারনে, যাদের ওয়্যালে শেয়ার হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে তাদের বন্ধুরা পেজটি সম্পর্কে জানতে পারবে। আর বার বার এ পেজটির নাম জানলেই, সেটি ব্রান্ড হয়ে দাঁড়াবে। ব্যবসায়িক কারনে তৈরি কোন ইমেজ কেউ সেটি শেয়ার করবেনা।
কোন একজন ডিজাইনারকে দিয়ে একটিমাত্র ছবি তৈরি করে নিন। পরে প্রতি সপ্তাহে শুধুমাত্র লেখা আর ছবি খুব সহজে নিজেই পরিবর্তন করে নিন। কাজটি তাহলে সহজ হয়ে যাবে।
- শুরুর দিকে খুব সতর্কভাবে প্রতি ৩দিন পর পর কোন একটি পোস্টে আপনার ব্যবসার কথা বলতে পারেন, তবে এত তাড়াতাড়ি সরাসরি প্রোডাক্ট বিক্রির কথা বললে, সেটি ব্রান্ডিংয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সেরকম একটি পোস্টের উদাহরণ দিচ্ছি এখানেঃ
গত সপ্তাহে রাজশাহীতে আমার নিজের পরিচিত একটি বাগান থেকে ইকরাম ভাইয়ের কাছে ১মণ আম বিক্রি করেছিলাম। উনার পরিকল্পনা ছিল, আমগুলো ১মাস ধরে খাবে। কিন্তু ২ দিন পর দেখেছে, বেশির ভাগ আম পচে কাল হয়ে গেছে। হুমম, এটিই হচ্ছে, ফরমালিন মুক্ত আমের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- মানুষের জন্য উপকারী এবং আপনার ব্যবসা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে মাঝে মাঝে চেষ্টা করুন, ব্লগে পোস্ট করেন। ব্লগপোস্টটির নিচে শুধু পেজে লাইক দেওয়ার অনুরোধ করে পেজের লিংক দিয়ে আসলেই হবে। ব্লগপোস্টে আর অন্য কোন বিজ্ঞাপন চালানোর লোভ সংবরণ করুন। এরকম ব্লগের জন্য পোস্ট মাসে ২টি হলেই চলবে। আরও বেশি করতে পারলেতো কথাই নাই। ভালই হবে।
- কাছের মানুষদের কাছ থেকে পেজের রিভিউ অংশে ভাল রিভিউ লিখে নিন। অনুরোধের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে হতে পারে শুরুর দিকে। যারা একটু অনলাইনে বেশি পরিচিত তাদের কাছ হতে রিভিউ নিতে পারলে বেশি ভাল হবে। এ রিভিউ দেখে মানুষের মনে আপনার কাছ হতে প্রোডাক্ট কিনার ব্যাপারে আস্থা তৈরি হবে। কাছের মানুষের কাছে প্রোডাক্ট বিক্রি করেই রিভিউ নিন, মিথ্যা রিভিউ নেওয়ার দরকার নেই।
- ১মাস পর থেকে প্রতিদিনের ৩টি পোস্টের মধ্যে একটি পোস্ট অবশ্যই একটি বিজ্ঞাপনধর্মী পোস্ট হবে। দুটিও হতে পারে। চেষ্টা করুন, সেই ব্যবসা সম্পর্কিত নিজের যেকোন কাযক্রমগুলোই সেখানে পোস্ট করার জন্য্। তাহলে অ্যানগেজিংটা অনেক বাড়বে। তবে সবসময়ই বিজ্ঞাপনের বাইরেও সবার জন্য উপকারী কনটেন্ট অবশ্যই করার দিকে সচেতন থাকতে হবে।
- যেসব পোস্টগুলো সবার জন্য কাজে লাগবে, সেই পোস্টগুলো অন্যগ্রুপেও শেয়ার করুন। তাহলে এ ফেসবুক পেজটির লাইক বাড়তে থাকবে।
- ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। ভিডিও শেয়ার হয় প্রচুর। সেখান থেকেও অনেক লাইক বৃদ্ধি পাবে। মাসে একটি ভিডিও আপলোড করার পরিকল্পনা রাখলেই ভালই হবে।
- মাসে একটি করে বিশেষ অফার দিতে পারেন। তবে সবসময় ব্যতিক্রম কিছু উদ্যোগ নিলে সেটি মানুষের নজরে খুব সহজে আসবে। এরকম একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ফেসবুকে দেখলাম। সেটি শেয়ার করলাম।
food-challange
Food Republic is calling all foodies for an Epic Challenge! Introducing The Abomination Challenge! Finish it all in 30 minutes and get all for free! Are you Ready?
Rules:
1. This challenge applies for one person
2. Time starts as soon as the timer starts
3. The challenger needs to clear all of the food and drink that is served
4. Food Republic reserves the right to change or omit any part of the challenge without prior announcement.
এরকম ক্যাম্পেইন কমপক্ষে ৩মাসে একবার হলেও অবশ্যই করতে হবে । এটি আপনার ব্রান্ডিং কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবে।
- যদি লোকাল ব্যবসা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে অফলাইন বিভিন্ন উদ্যোগও অবশ্যই নিতে হবে। না হলে ব্রান্ডিং করা যাবেনা। গরীব কিংবা এতিমদের বিনামুল্যে ফ্রি ফল খাওয়ানোর উদ্যোগ, এরকম কিছু অফলাইন ক্যাম্পেইন ব্রান্ডিংয়ের কাজকে অনেক সহজ করে দিবে। নিজের মাথা থেকে ব্যতিক্রম কিছু এরকম উদ্যোগ নিতে পারেন।
অ্যানগেজমেন্ট এবং পেজের লাইক বৃদ্ধির আরও অনেক ধরনের উপায় বের করা যেতে পারে। এগুলো এখানে আর আলোচনা করলামনা।
৭ম ধাপঃ প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য পেমেন্ট সিস্টেম): সবগুলো পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা করা না গেলেও চেষ্টা করতে পারেন জনপ্রিয় সকল পেমেন্ট সিস্টেমগুলোতে ক্লায়েন্টের পেমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশের জন্য বিকাশ, ব্রাক ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক এই জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর মাধ্যমে পেমেন্টের ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে।
সব লেনদেন যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করবেন। তাহলেই সবার মধ্যে ব্যবসা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হবে। এবং ব্যবসা অনেক বড় হবে, এবং সেই সাথে টিকবেও অনেকদিন।
পেজের  অ্যানগেজমেন্ট বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা আগে সাজিয়ে নিন। তাহলে কাজের সুবিধা হবে।  আমি আমার বউয়ের হিজাবসহ মহিলাদের ড্রেসের ব্যবসার ফেসবুক পেজের  (Joti Hizab: https://www.facebook.com/Joti.hizab ) পরিকল্পনাটা করে দিয়েছি। সেটি সবার সাথে শেয়ার করছি। নিচের লিংক থেকে সেটি ডাউনলোড করে নিন। সেই সাথে পেজটিতে লাইক দিয়ে সবসময়ের পোস্টগুলো অনুসরণ করতে পারেন, তাহলেও সব আইডিয়া একদম পরিস্কার হয়ে যাবে।
http://www.mediafire.com/view/c5yfdv69cqu8i19/Joti_Hijab.pdf
এ পোস্টটি পড়ার পর আশা করব, কেউ আর বেকার, অনেক গরীব, কাজ নেই, সেই বিষয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে আমাকে নক দিবেননা। এরপরও কেউ বেকার সেটি শুনতে পাওয়াটা দুঃখজনক। আমিতো কষ্ট করে লিখে সবার জন্য উপকার করার চেষ্টা করেছি। যারা পাঠক, তাদের কাছে অনুরোধ পোস্টটি পড়ার পর নিজের ওয়্যালে শেয়ার করবেন। তাহলে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।
On 1:48 PM in



একটি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। এই যড়যন্ত্র কতোদূর বিস্তৃত ছিল তা নিয়ে অনেক তথ্য এখনো অজানা। আরো গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে হয়তো আগামীতে এই বিষয়ে বিভিন্ন নতুন তথ্য জানা সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে এমন কথা ১৯৭৫-এর আগস্টের আগেই বিভিন্নভাবে শোনা যেতে থাকলেও, সেই ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত তথ্য কখনো গোপন রাখা হয়েছিল, কখনো সেইসব তথ্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যারা ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ১৯৭৫-এর আগস্টের আগেই তাদের কারো কারো পরিচয় প্রকাশিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে নিষ্ক্রিয়তা ছিল। বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্যদের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর এই হত্যাকান্ড পরিচালনাকারী চাকুরীরত এবং প্রাক্তন সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে দ্রুত সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল একই নিষ্ক্রিয়তা। আগস্ট হত্যাকান্ড পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে যে লেখালেখি এবং আলোচনা হয়েছে তার আলোকে সেই ষড়যন্ত্র এবং নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কে এই লেখায় কিছু তথ্য উপস্থাপন করবো।

ঢাকায় ১৯৭৪ সালের শেষভাগ থেকেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এবং সম্ভাব্য একটি সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব শোনা যাচ্ছিলো (মাহমুদ আলী: ২০১০, পৃ-১১০।) সাংবাদিক লরেন্স লিফসুলৎজ ১৯৭৯ সালে বৃটিশ সংবাদপত্র “গার্ডিয়ান”-এ তার একটি লেখায় উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে কিছু বাংলাদেশী ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে উৎখাতের ব্যাপারে কথা বলেন। লিফসুলৎজ এই বাংলাদেশীদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে বঙ্গবন্ধুকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে খন্দকার মোশতাক-এর জড়িত থাকার প্রসঙ্গে লিফসুলৎজ এই বৈঠকসমূহের কথা উল্লেখ করেন। তার লেখায় তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই বাংলাদেশীরা কোন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমণের প্রধান দুই পরিকল্পনাকারী মেজর ফারুক এবং মেজর রশিদ সাংবাদিক অ্যান্টনি ম্যাসকারেনহাস-এর সাথে সাক্ষাতকারে কোন বিদেশী মিশনের সাথে তাদের যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছিলেন (ম্যাসকারেনহাস: ১৯৮৬, পৃ-৬৫।) মার্কিন দূতাবাসের সাথে যোগাযোকারী বেসামরিক ব্যক্তিরা বেশ ক’বার অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিনী কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। ১৯৭৫-এর জানুয়ারিতে মার্কিনীরা এই বাংলাদেশীদের সাথে আর আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ধারণা করা হয়, এই বাংলাদেশীরা বঙ্গবন্ধুর সরকারকে উৎখাত করার ব্যাপারে মার্কিন মনোভাব বোঝার ব্যাপারেই মার্কিনী কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন। মার্কিনীরা এই বাংলাদেশীদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু প্রশাসনকে সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত করেছিল কী না তা জানা যায় না। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই গোপন বৈঠক সম্পর্কে কতোটুকু তথ্য পেয়েছিল তাও জানা যায় না।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান ১৯৭৫ সালে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেইসময়ের একমাত্র আর্মার্ড রেজিমেন্ট বেঙ্গল ল্যান্সারস্-এর সহ-অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাত্র অল্প কিছুদিন পূর্বে ফারুক মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশ থেকে কলকাতায় আসেন। যশোর মুক্ত হওয়ার পর ফারুক যশোরে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেন (হুদা: ২০১১, পৃ-১০৬।) যুদ্ধের পর তাকে নবগঠিত একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ১২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসবে দায়িত্ব দেয়া হয়। ট্যাংক কোরের অফিসার ফারুক কিছুদিন পর ঢাকায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর একমাত্র ট্যাংক ইউনিট বেঙ্গল ল্যান্সারস্-এ অধিনায়ক হিসেবে বদলী হয়ে আসেন। অচিরেই তিনি সেনাবাহিনীতে রুশ-ভারত বলয়ের সমালোচনাকারী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মনোভাবটিও স্পষ্ট হতে থাকে (নাসির উদ্দিন: ১৯৯৭, পৃ- ৫০।) ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় ফারুক সরকার উৎখাতের ব্যাপারে তার এবং সেনাবাহিনীর অন্যান্য কিছু জুনিয়র অফিসারের চিন্তার কথা সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ-প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান-এর কাছে প্রকাশ করেন। লক্ষণীয়, ফারুক সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ’র সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা না করে জিয়াকে আস্থায় নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানান। সরকার পরিবর্তনের এই পরিকল্পনায় ফারুক জিয়ার সমর্থন এবং নেতৃত্ব চান। অ্যান্টনি ম্যাসকারেনহাস-এর কাছে পরবর্তীতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ফারুক জানান, জিয়া সরাসরি এই পরিকল্পনায় যুক্ত হতে অস্বীকার করেন, কিন্তু তিনি ফারুককে বলেন জুনিয়র অফিসাররা এমন কিছু করতে চাইলে তারা অগ্রসর হতে পারে। ১৯৭৬ সালে লন্ডনে মুজিব হত্যাকান্ড নিয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান করার সময় ম্যাসকারেনহাস জিয়াকে ফারুক-এর এই বক্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে জিয়া ম্যাসকারেনহাস-এর প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকেন। ফারুকের সাথে তার এমন কথোপকথনের বিষয়টিও জিয়া তখন অস্বীকার করেননি (ম্যাসকারেনহাস: ১৯৮৬, পৃ-৫৪।) লক্ষণীয়, ১৯৭৫-এর মার্চে তার অধীনস্ত সেনা কর্মকর্তা ফারুকের কাছ থেকে এমন একটি পরিকল্পনার কথা শোনার পরও সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান জিয়া ফারুককে নিবৃত্ত বা গ্রেফতার করার চেষ্টা করেননি (মাহমুদ আলী: ২০১০, পৃ-১১১)।

১৯৭৫ সালে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিজিএস। মুজিব হত্যাকান্ডের প্রায় তিন মাস পর তার নেতৃত্বেই ফারুক-রশিদ চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সেনাবাহিনীর ট্যাংক কোরের অপর একজন অফিসার মেজর নাসির উদ্দিন-এর একটি বর্ণনা থেকে জানা যায় ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকেই খালেদ মোশাররফ ফারুকের সরকার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনার ব্যাপারে অবহিত হয়েছিলেন। মেজর নাসির উদ্দিন একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৩ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ট্যাংক কোরের অফিসার হিসেবে তিনিও বেঙ্গল ল্যান্সারস্-এ কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। মু্ক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর ফেলে যাওয়া তিনটি পুরনো এবং হালকা ধরনের মার্কিন এম-২৪ শেফী ট্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্যাংক ইউনিট বেঙ্গল ল্যান্সারস্ যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৪ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত বাংলাদেশকে সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত ৩০টি টি-৫৪ মিডিয়াম ট্যাংক উপহার দেন। ট্যাংকগুলির সাথে শ’চারেক গোলাও বাংলাদেশ পাঠানো হয়। ১৯৭৫-এর মার্চ মাসের মাঝামাঝি কোন এক রাতে গোলাসহ ৬টি ট্যাংক বিশেষ ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জীবন্ত গোলা বর্ষণ মহড়ার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। মেজর ফারুকের ওপর দায়িত্ব ছিল কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্যাংকগুলো বিশেষ ট্রেনে তুলে দেয়ার কাজটি তদারক করা। ফারুক গভীর রাতে মেজর নাসিরের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে জানান যে তিনি ট্যাংক ট্রেনে না তুলে সেই রাতেই একটি অভ্যুত্থান ঘটাতে চান। নাসিরকে তার প্রয়োজন কারণ বেঙ্গল ল্যান্সারস্-এ চারশোর মতো মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক আছে যারা নাসিরের নির্দেশ মেনে নেবে। নাসির ফারুকের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ-কে ফারুকের উপস্থিতিতেই টেলিফোন করেন। খালেদ ফারুকের সাথে ফোনে কথা বলে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং নাসিরকে নির্দেশ দেন ফারুকের সাথে কমলাপুর রেলস্টেশনে যেয়ে ট্যাংক ট্রেনে তোলা তদারক করার জন্য। খালেদ এও জানান ফারুক অন্যরকম কিছু করলে তিনি ফারুককে গ্রেফতারের জন্য মিলিটারী পুলিশ পাঠাবেন (নাসির উদ্দিন: ১৯৯৭, পৃ- ৫৮-৫৯)।

সেই রাতে ফারুকের এমন আচরণ দেখার পরও ফারুকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ বা মেজর নাসির কেউই সরকার, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ বা দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে ফারুকের এমন পরিকল্পনার কথা আদৌ জানিয়েছিলেন কী না তা জানা যায় না। এছাড়া ঢাকা সেনানিবাসে আগে থেকেই একথা জানা ছিল যে, ফারুক ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে সেনাবাহিনীর তখনকার তিনটি ট্যাংক নিয়ে একবার অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সমর্থনে কুমিল্লা থেকে একটি সৈন্যদল ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই দলটি ঢাকায় এসে না পৌঁছায় ফারুকের পরিকল্পনা ভেস্তে যায় (জামিল: ১৯৯৮, পৃ-১১৭।) ট্যাংক ব্যবহার করে একটি অভ্যুত্থান করার ব্যাপারে ফারুকের এমন আগ্রহ এবং তৎপরতা সম্পর্কে সেনাবাহিনীর সব উর্দ্ধতন অফিসাররা অবহিত থাকার পরও ফারুকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী থেকে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং ফারুক সেনাবাহিনীর ট্যাংক ইউনিট বেঙ্গল ল্যান্সারস্-এই সহ-অধিনায়ক হিসেবে কাজ করতে থাকেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট এই রেজিমেন্টের ট্যাংকগুলির সাহায্যেই তার ভয়াল এবং নির্মম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন যার ফলে প্রাণ হারান শেখ মুজিবসহ আরো অনেকে।

শেখ মুজিব-এর ওপর হামলা হতে পারে এমন আভাস অবশ্য ১৯৭৫ সালের বিভিন্ন সময় পাওয়া যেতে থাকে। ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসের এক রাতে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি ই এ চৌধুরী রক্ষীবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে এসে জানান যে সেই রাতেই বঙ্গবন্ধুর ওপর হামলা হতে পারে এমন সংবাদ তিনি পেয়েছেন। সেই রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি এবং শেখ মণি’র বাড়ির ওপর সতর্ক নজড় রাখা হয়। এর মাস দেড়েক পর একদিন রক্ষীবাহিনীর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করেন যে রাতে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা হতে পারে। আবারও রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা রাতে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন (আলম: ২০১৩, ১২৮-২৯।) সেই সময় রাষ্ট্রপতির স্পেশাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মাহবুব তালুকদার। ১৯৭৫-এর আগস্টের অল্পসময় আগে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত তার একজন পরিচিত ব্যক্তি উদ্বেগের সাথে তাকে জানান যে বঙ্গবন্ধুকে সরানোর গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই খারাপ কিছু একটা ঘটবে। তিনি মাহবুব তালুকদারকে অনুরোধ করেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকে দ্রুত এই কথা জানানোর জন্য। সেই কর্মকর্তা অবশ্য তার এই দাবীর পক্ষে তৎক্ষণাৎ কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুকে না জানালেও, মাহবুব তালুকদার তার বন্ধু শেখ মণিকে এই কথা জানান। কিন্তু শেখ মণি গোয়েন্দা সংস্থার সেই কর্মকর্তার দেয়া তথ্যকে “আজগুবী খবর” বলে উড়িয়ে দেন (তালুকদার: ১৯৯২, পৃ-১৪২-৪৪।) বোঝা যায়, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এমন খবর কোনভাবে আঁচ করা গেলেও কারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে তখন ছিল না। ষড়যন্ত্রকারীরা দক্ষতার সাথে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে পেরেছিলো।

সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সরকারকে কোন আগাম তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়। ১৯৭৫ সালে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার আবদুর রউফ। তিনি ছিলেন একজন পাকিস্তান-প্রত্যাগত অফিসার। ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে ব্যবহার করা হয় সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিট --- বেঙ্গল ল্যান্সারস্ আর মেজর খন্দকার আবদুর রশিদের নেতৃত্বাধীন টু ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট-এর সৈনিকদের। এই দুটি ইউনিটই ঢাকা’র ৪৬ ব্রিগেডের অধীনে ছিল। তখন এই ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল। আগস্ট হত্যাকান্ডের মাস দুয়েক আগেই অজ্ঞাত কারণে ৪৬ ব্রিগেডের একমাত্র গোয়েন্দা ইউনিটটিকে প্রত্যাহার করে সেনা হেডকোয়ার্টারের অধীনে ন্যস্ত করা হয় (জামিল, পৃ-১১৯।) ফলে ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডারের তার নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট থেকে কোন তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ ছিল না। ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড পরিচালনায় ফারুক-রশিদের অন্যতম সহযোগী তৎকালীন মেজর বজলুল হুদা নিজেই সেনাসদরে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রহরায় নিয়োজিত ছিল কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে আগত ১ম আর্টিলারী রেজিমেন্টের সৈনিকরা। সেনাসদরের নির্দেশেই কুমিল্লা থেকে এই রেজিমেন্টের সৈন্যদের ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রহরার জন্য আনা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমণ পরিকল্পনার সাথে জড়িত মেজর হুদা আর মেজর ডালিম দু’জনই ছিলেন ১ম আর্টিলারী রেজিমেন্টের পুরনো অফিসার। ফলে, এই রেজিমেন্টের অনেক সৈন্যই ডালিম আর হুদার অনুগত ছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলায় হুদা অংশ নেয়। ধারণা করা হয়, আক্রমণকারীদের মধ্যে হুদার উপস্থিতি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রহরারত আর্টিলারীর সৈনিকদের আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করার ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় করে তোলে (হোসেন: ২০০৭, পৃ-২৫।) ধানমন্ডিতে আক্রমণে ব্যবহার করা হয় বেঙ্গল ল্যান্সারস্-এর কিছু বাছাই করা সৈনিক যারা ছিল বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং ফারুকের প্রতি বিশ্বস্ত। ফারুক ট্যাংক নিয়ে রক্ষীবাহিনীর প্রধান কার্যালয় ঘিরে ফেলে। যদিও এই ট্যাংকগুলিতে কোন গোলা ছিল না। কিন্তু ট্যাংক দেখে রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা প্রতিরোধে অগ্রসর হয়নি।

ট্যাংকগুলোতে গোলা না থাকলেও রশিদের টু ফিল্ড আটিলারি ইউনিট থেকে প্রচুর গোলাবারুদসহ ৬টি ১০৫ মি.মি. হাউইটযার আক্রমণে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে যখন গোলাগুলি চলছিলো তখন একটি হাউইটযার দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গোলা বর্ষণও করা হয়, যার কিছু গোলা মোহাম্মদপুর অঞ্চলে যেয়েও ক্ষতিসাধন করে। মেজর রশিদ এই হামলার আগে ভারত থেকে গানারী স্টাফ কোর্স শেষ করে দেশে ফেরেন। এই কোর্স শেষ করার কারণে স্বাভাবিকভাবে আর্টিলারী ইন্সট্রাকটর হিসেবে তার পোস্টিং হয় যশোরে কম্বাইন্ড আর্মস স্কুলে। কিন্তু হঠাৎ করে তার পোস্টিং পাল্টে তাকে ঢাকায় বদলী করে নিয়ে আসা হয়। এই বদলীর পেছনে কার ভূমিকা ছিল তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ৪৬ ব্রিগেডের অধীনস্ত সেনাবাহিনীর পদাতিক ইউনিটগুলিকে ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড সংঘটিত হবার পর সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। কিন্তু সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ ৪৬ ব্রিগেডের অধিনায়ক শাফায়াত জামিলকে অভ্যুত্থানকারী ল্যান্সারস্ ও টু ফিল্ড আর্টিলারি’র সৈনিকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার আদেশ দেননি। মুজিব হত্যাকারীদের প্রতিরোধ না করায় তৎকালীন রংপুর ব্রিগেডের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার নাজমুল হুদা (যাকে পরবর্তীতে খালেদ মোশাররফ-এর সাথে ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর হত্যা করা হয়) সফিউল্লাহ এবং সেনা সদরের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। নাজমুল হুদা তখন বলেছিলেন রক্ষীবাহিনীর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান দেশে থাকলে হয়তো তিনি এই হত্যাকান্ড প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন (হুদা, পৃ-১১০।) উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান এবং কর্ণেল নাজমুল হুদা দু’জনই বঙ্গবন্ধুর সাথে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান ১২ আগস্ট বিদেশ গিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা তাদের করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অসুবিধার সম্মুখীন হয়। সেসময় ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর অস্ত্র-গোলাবারুদ থাকতো পিলখানায় বিডিআর প্রধান কার্যালয়ে। কিন্তু ১৫ আগস্টের পর রক্ষীবাহিনী পিলখানা থেকে তাদের অস্ত্র আনতে গেলে, তাদেরকে সেই অস্ত্র-গোলাবারুদ দেয়া হয়নি (আলম, পৃ-১৪৬।) রক্ষীবাহিনীকে তাদের অস্ত্র নিতে না দেয়া হলেও হত্যাকান্ডের পর ফারুকের গোলাবিহীন ট্যাংকগুলোর জন্য রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপো থেকে গোলা আনার অনুমতি দেয়া হয়। জানা যায়, সেনাপ্রধানের নির্দেশে সিজিএস খালেদ মোশাররফ এই অনুমতি দেন (জামিল, পৃ-১০৭)।

সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থান করার ব্যাপারে ফারুকের ইচ্ছা এবং পরিকল্পনার কথা জানার থাকার পরও ফারুকের বিরুদ্ধে তৎকালীন উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা না নেয়া, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার এই আসন্ন আক্রমণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে না পারা, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা প্রদানের ব্যাপারে খুবই বিশ্বস্ত সৈন্যদল নিয়োগ না করা প্রভৃতি কারণেই ১৯৭৫-এর আগস্ট হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পেরেছিলো। হত্যাকান্ডের পর সেনাবাহিনীর যে দুটি ইউনিট এই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়, তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনী থেকে দ্রুত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ-শাফায়াত জামিল-এর নেতৃত্বে মুজিব হত্যাকারী মেজরদের ট্যাংক ও কামানের বিরুদ্ধে পদাতিক বাহিনী ও বোমারু বিমান দিয়ে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। সেই অভিযানের প্রস্তুতি দেখেই ফারুক-রশিদ-ডালিম-নূর চক্র সংঘাত-এর সাহস হারিয়ে ফেলে। ফারুকের ল্যান্সারস্ বাহিনীর সদস্যরা সেদিন পদাতিক বাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণের ভয়ে বঙ্গভবনে তাদের অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে থাকে (তালুকদার, পৃ-১৬৪।) দু’দিনের মধ্যেই ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া সেনা অফিসাররা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। প্রতিরোধের মুখে তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা কতোটা কম ছিল, এ থেকেই তা ধারণা করা যায়। তাই ট্যাংক বা কামানের কারণে ফারুক-রশিদের বাহিনীর অল্প কিছু সৈন্যের বিরুদ্ধে ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের পরপরই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে না তোলার যুক্তি গ্রহণযোগ্য হয় না। কেন বঙ্গবন্ধুর ফোন পাওয়ার পরও সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ তার অধীনস্ত সেনা ইউনিটসমূহকে দ্রুত আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারলেন না, সেই ব্যাপারটি প্রশ্ন তৈরি করে। সেনাবাহিনীতে সফিউল্লাহর প্রভাবও কম ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বাধীন ২য় বেঙ্গল রেজিমেন্ট তখন ঢাকাতেই ছিল। হত্যাকান্ডের পর আক্রমণকারীদের দমন করার জন্য যুদ্ধ বিমান ব্যবহার করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়নি। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ-শাফায়াত জামিল নতুন সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দী করে ফারুক-রশিদ চক্রের বিরুদ্ধে যেভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন, একই রকম শক্ত অবস্থান ১৫ আগস্টের পরপরই তারা গ্রহণ করেননি। কেন এই দু’জন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ এবং তাদের প্রতি অনুগত অন্যান্য অফিসার ও ইউনিটগুলোকে নিয়ে ধানমন্ডিতে হত্যাকান্ড ঘটার পরই ফারুক-রশিদ চক্রকে প্রতিরোধ করলেন না, তাও প্রশ্ন তৈরি করে। এই কথাই স্পষ্ট হয়, বৃহৎ এক ষড়যন্ত্রের জন্য এবং দায়িত্ব পালনে অনেকের নিষ্কিয়তার কারণেই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট-এর হত্যাকান্ডসমূহ দেশকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছিল।

সহায়ক গ্রন্থসমূহ:
S. Mahmud Ali. Understanding Bangladesh (New York: Columbia University Press, 2010)

Anthony Mascarenhas. Bangladesh: A Legacy of Blood (London: Hodder and Stoughton, 1986)

মেজর নাসির উদ্দিন, গণতন্ত্রের বিপন্নধারায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী (ঢাকা: আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৭)

কর্ণেল শাফায়াত জামিল, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর (ঢাকা: সাহিত্য প্রকাশ, ১৯৯৮)

মাহবুব তালুকদার, বঙ্গভবনে পাঁচ বছর (ঢাকা: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ২০০৫)

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ: রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫-৮১ (ঢাকা: পালক পাবলিশার্স, ২০০৭)

আনোয়ার উল আলম, রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা (ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন, ২০১৩)

নীলুফার হুদা, কর্ণেল হুদা ও আমার যুদ্ধ (ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন, ২০১১)
On 1:35 PM in

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিব ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনসহ নিহত হন আরও ২৬ জন। এদের মধ্যে যারা রয়েছেন:
শেখ কামাল
বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ৫ই আগস্ট, ১৯৪৯ সাল।
বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি. এ. (অনার্স) পাস করেন। ছায়ানটে সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। নাটক, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। শৈশব থেকেই খেলাধুলায় ছিলো তার প্রচণ্ড উৎসাহ। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মানোন্নয়নে তার শ্রম ও অবদান ছিল অপরিসীম। নতুন খেলোয়াড় তৈরির জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে নিজেই মাঠে অনুশীলন করতেন। ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ছাত্রলীগের একজন সংগঠক হিসেবে ‘৬৬-এর স্বাধিকার আন্দোলন, ‘৬৯-এর গণআন্দোলন ও ‘৭১- এর অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতেই বাড়ি থেকে চলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ওই দিন ভোরে বাড়ি ঘেরাওয়ের কথা শুনে নিচে নেমে এলে ঘাতকরা সবার আগে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
শেখ জামাল
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ২৮ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল।
বঙ্গবন্ধুর মেজো ছেলে শেখ জামাল শৈশবে শাহীন স্কুল ও পরে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। একটি সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রে গিটার বাজানো শিখতেন। ক্রিকেট খেলতেন আবাহনী মাঠে। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধানমণ্ডি ১৮ নং রোডের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বন্দি অবস্থায় থাকাকালে একদিন গোপনে বের হয়ে কালীগঞ্জ হয়ে মুক্তাঞ্চলে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে থাকাকালে যুগোশ্লভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটোর আমন্ত্রণে সেদেশে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে যান। তার পর লন্ডনের স্যান্ডহার্স্ট আর্মি একাডেমি থেকে সেনা প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট র‌্যাংকে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ই জুলাই ফুফাতো বোন রোজীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৫ আগস্ট তাদের এক সঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়।
শেখ রাসেল
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র
জন্ম: ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সাল।
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বাড়ির ছোট্ট ছেলে হিসেবে সবার আদরের ছিল। রাজনৈতিক পরিবেশ ও সঙ্কটের মধ্যেও সে চির সঙ্গী সাইকেল নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতো। ১৯৭১Ñএর মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয়মাস পিতার অদর্শন তাকে এমনই ভাবপ্রবণ করে রাখে যে, পরে সব সময় পিতার কাছাকাছি থাকতে জেদ করতো। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তাদের লাশ দেখিয়ে তারপর রাসেলকে হত্যা করা হয়। তাকে কাজের লোকজন পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যায়। কিন্তু ঘাতকরা তাকে দেখে ফেলে। বুলেটবিদ্ধ করার পূর্বে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়া হয়। রাসেল প্রথমে মায়ের কাছে যেতে চায়। মায়ের লাশ দেখার পর অশ্র”সিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিল ‘আমাকে হাসু আপার ( শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দিন।’
শেখ আবু নাসের
বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, সেপ্টেম্বর, ১৯২৮ সাল।
শেখ আবু নাসের টুঙ্গিপাড়া ও গোপালগঞ্জে লেখাপড়া করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবং বড়ভাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অল্প বয়সেই তাকে পিতার সঙ্গে পারিবারিক কাজকর্ম ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে হয়। এজন্য খুলনা শহরে বসবাস করতে হত। পরবর্তী সময়ে তিনি খুলনায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। ১৯৭৫-এ নিহত হওয়ার সময় বড় ভাইয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে যান।
সুলতানা কামাল খুকু
শেখ কামালের স্ত্রী
জন্ম: ঢাকা, ১৯৫১ সাল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দবির উদ্দিন আহমেদের ছোট মেয়ে। মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স পাস করেন। ১৯৭৫ সালে এম. এ পরীক্ষা দেন। স্কুল থেকে আন্তঃখেলাধুলায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে লংজাম্পে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ক্রীড়ায় চ্যাম্পিয়ন হন।
মোহামেডান ক্লাবের পক্ষে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিকে লংজাম্পে দ্বিতীয়, ১৯৬৮ সালে ঢাকার মাঠে পাকিস্তান অলিম্পিকে লং জাম্পে ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ডসহ স্বর্ণপদক পান। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯-৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় ক্রীড়ায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে নিখিল পাকিস্তান মহিলা এথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় তিনি রেকর্ডসহ স্বর্ণ পদক পান। ১৯৭৩-এ লংজাম্পে স্বর্ণ পান। ১৯৭৪ এ লংজাম্প ছাড়াও সুলতানা ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিয়ের আগে তাকে দেখে আশীর্বাদ করেছিলেন। বাড়ির বড় বউ হিসাবে তার বিপুল সমাদর হয়েছিল।
পারভীন জামাল রোজী
শেখ জামালের স্ত্রী
জন্ম: সিলেট, ১৯৫৬ সাল।
বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট বোন খাদেজা হোসেনের মেয়ে। পিতা সৈয়দ হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ধানমণ্ডি গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বদরুন্নেসা আহমেদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাত্র ৩০ দিনের বিবাহিত জীবন ছিল তার। মেহেদির রং তখনও তার দু’হাতে ছিল। বেগম মুজিবকে হত্যা করে ঘাতকরা জামালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজী ও সুলতানাকে এক সঙ্গে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করে। ওই বাড়িতে দু’বধুর শুভাগমন যেমন এক সঙ্গে তেমনি শোকাহত বিদায়ও ছিলো একসঙ্গে।
আবদুর রব সেরনিয়াবাত
বঙ্গবন্ধুর সেজ বোনের স্বামী
জন্ম: বরিশাল, ১৪ই চৈত্র ১৩২৭ বাংলা।
বরিশাল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী ছিলেন। বেকার হোস্টেলেও এক সঙ্গে থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর সেজ বোন আমেনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কলকাতায় আই. এ. ও বি. এ পাস করার পরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে বরিশালে আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১- এর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২ সালের ১২ই এপ্রিল কৃষিমন্ত্রী হন। ১৯৭৩ এর নির্বাচনেও জয়লাভ করেন এবং বঙ্গবন্ধু তাকে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার ও উৎপাদনে এবং কৃষকদের সহায়তা দেওয়ায় তার ভূমিকা ছিল যথেষ্ট জোরালো। একজন সৎ আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে তিনি সব মহলে প্রশংসিত ছিলেন।
শেখ ফজলুল হক মনি
বঙ্গবন্ধুর মেজো বোনের বড় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সাল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমস-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাপ্তাহিক ‘সিনেমা’ ও মধুমতি মুদ্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৫৬ সালে ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৮ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ. ১৯৬০ সালে বরিশাল বি. এম. কলেজ থেকে বি. এ. এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ. বং পরবর্তী সময়ে এলএলবি পাস করেন।
ছাত্রাবস্থায়ই শেখ মনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬০ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে কুখ্যাত হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছয় মাস বিনা বিচারে আটক থাকার পর তিনি মুক্তি পান।
গণবিরোধী শিক্ষানীতি ও সরকারের দমনীতির প্রতিবাদে ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে তদানীন্তন গভর্নর মোনায়েম খানের হাত থেকে ডিগ্রি সার্টিফিকেট না নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শেখ মনির এম. এ. ডিগ্রী কেড়ে নেওয়া হয়। কিছু দিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৫ সালের শেষাশেষি পর্যন্ত তাকে দেশরক্ষা আইনে আটক রাখা হয়। এ সময় সরকার তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সাজানো মামলা দায়ের করে।
১৯৬৬ সালে শেখ ফজলুল হক মণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাঙালির স্বাধিকারের সনদ ঐতিহাসিক ছয়দফার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছয় দফা আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণীকে সংগঠিত করা এবং ঐতিহাসিক ৭ জুনের হরতাল সর্বাত্মক সফল করার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। ওই সময় সরকার শেখ মনির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। ১৯৬৬ সালের জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর মুক্তিযোদ্ধা ও যুব সমাজকে সংগঠিত করে দেশগড়ার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ছিলেন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তেজগাঁও আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে মনি শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলে শেখ মনি অন্যতম সম্পাদক নিযুক্ত হন।
শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৭৩ সালে বার্লিন যুব উৎসবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন সফল সংগঠক, সুবক্তা ও সুলেখক। সম্পাদকীয় ছাড়াও তিনি স্বনামে ও ছদ্মনামে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। ছয় দফার ওপর ও তার লেখা ছোটগল্পের সংকলন ‘বৃত্ত’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। ১৯৭৪ সালে শেখ মনির দ্বিতীয় গল্প সংকলন ‘গীতা রায়’ প্রকাশিত হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেই রাতে শেখ মনির জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও কনিষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস অলৌকিকভাবে রক্ষা পায়। পরশের বয়স ছিল পাঁচ বছর এবং তাপসের মাত্র তিন বছর।
বেগম আরজু মনি
শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী
জন্ম: বরিশাল, ১৫ মার্চ ১৯৪৭ সাল।
বরিশাল সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বি. এ. পাস করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন। ১৯৭০ সালে খালাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে বিয়ে হয়। দু’সন্তানের মা আরজুকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ
বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার
জন্মঃ গোপালগঞ্জ, ১ ফেব্র”য়ারি ১৯৩৩ সাল।
১৯৫২ সালে ক্যাডেট হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সচিবালয়ে যোগ দেন এবং বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ভোর ৫টায় বঙ্গবন্ধু লাল টেলিফোনে তাকে সেনাবাহিনীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কথা জানালে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হন তিনি। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর জীবন রক্ষার জন্য তিনি আত্মাহুতি দিয়েছেন। তার এ আত্মদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
বেবী সেরনিয়াবাত
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের
ছোট মেয়ে
জন্মঃ বরিশাল, ২০ মে ১৯৬০ সাল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। নিহত হবার সময় পিতার কাছে ছিল।
আরিফ সেরনিয়াবাত
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র
জন্মঃ ২৭ মাচর্, ১৯৬৪ সাল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। নিহত হওয়ার সময় ঢাকায় পিতার কাছে ছিল।
সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি
জন্ম: গৌরনদী, বরিশাল, ২২ জুন ১৯৭১ সাল।
আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্ল¬াহর জ্যেষ্ঠ পুত্র বাবু নিহত হওয়ার সময় বয়স ছিল ৪ বছর এবং ঢাকায় দাদার বাসায় বেড়াতে এসেছিল।
শহীদ সেরনিয়াবাত
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে
জন্মঃ বরিশাল, ২৬ মার্চ ১৯৪০ সাল।
বরিশাল বি এম স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কলেজ থেকে আই. এ. ও বি. এ. পাস করেন। ঢাকা থেকে আইন পাস করে বরিশালে কোর্টে আইনজীবী ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার বরিশালের সংবাদদাতা ছিলেন। ১৫ আগস্ট চাচার বাসায় অবস্থানকালে নিহত হন।
আবদুল নঈম খান রিন্টু
আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই
জন্মঃ বরিশাল, ১ ডিসেম্বর ১৯৫৭ সাল।
বরিশাল জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। বরিশালের একটি সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন এবং তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় অবস্থান কালে নিহত হন।
On 12:37 PM in

বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি—দু ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ই সংখ্যায় বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। তবু কাঙ্ক্ষিত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও জায়গা দিতে পারছে না।
গত দশ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চশিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ফি বছর বাড়ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিকল্প ভাবতে হবে বিশাল জনগোষ্ঠীর ছোট্ট বাংলাদেশকে।
বিশ্বখ্যাত ইংরেজি পত্রিকা ইকোনমিস্ট-এর ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চলতি বছরের শুরুতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ মডেল নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার প্রতি যেভাবে আগ্রহ বাড়ছে, তাতে এখানে উচ্চশিক্ষার নতুন মডেল নিয়ে ভাবতে হবে। সেটা হতে পারে অনলাইনে উচ্চশিক্ষা।
অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মনে করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি হতে আরও সময় লাগবে। এ জন্য সরকারি নীতি দরকার। তা ছাড়া কারিগরি সক্ষমতা আছে কি না—তাও দেখা দরকার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একটি গবেষণা বলছে, আগামী ২০-২৫ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয় দরকার হবে। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। সেটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। সরকার একা সব করতে পারবে না। বেসরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এটাও ভাবতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু দালান-কোঠা নয়। জ্ঞান সৃষ্টি, ধারণ ও বিতরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তবে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অনলাইন সত্যিকার অর্থেই একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সরকারকে এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেওয়া এবং তা মাথায় রেখে এখন থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এরই মধ্যে অনলাইনে উচ্চ শিক্ষা বিশ্বকে নাড়া দিতে শুরু করেছে। যা পরিচিতি পেয়েছে ‘ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্সেস (মুকস)’ নামে। হয়তো বাংলাদেশেও ভবিষ্যতের উচ্চ শিক্ষা হবে কাঠামোগত বিশ্ববিদ্যালয় আর অনলাইন-এই দুয়ের সমন্বয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিসেবে, ২০০৪ সালে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৯টি। শিক্ষার্থী ছিলেন এক লাখ ১২ হাজার ৩২৭ জন। ১০ বছরের মাথায় ২০১৩ সালে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪টিতে। আর শিক্ষার্থী ২০ লাখ ২০ হাজার ৫৪৯। এই ১০ বছরের মধ্যে দুই বছর বাদে প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এখানে জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ/মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও হিসাবে ধরা হয়েছে। এগুলো বাদে সরকারি ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৬০২ জন।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেড়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেও প্রতি বছর বাড়ছে শিক্ষার্থী। ইউজিসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন এক লাখ ২৪ হাজার ২৬৭ জন। ২০১৩ সালে ৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন তিন লাখ ২৮ হাজার ৭৩৬ জন। এখানে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শতকরা হারে বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী দুটোই যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একই সঙ্গে আবার একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। কারণ প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনসংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করছেন। বাংলাদেশ ব্যুরো অব এডুকেশনাল ইনফরমেশন অ্যান্ড স্টাটিস্টিকসের (ব্যানবেইস) হিসাবে ২০১৩ সালের হিসাবে ৩২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাতীয় ও উন্মুক্ত বাদে) প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসন আছে ৫৭ হাজার ১৬২টি। আর ৬৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষে আসনসংখ্যা ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫টি। অর্থাৎ জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে আসন ছিল দুই লাখ দুই হাজার ১৮৭টি। আর ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিকের চৌকাঠ পেরিয়েছিলেন পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৭ জন। এর বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে পাস করেছিলেন আরও ৮০ হাজার শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ছয় লাখ ৯২ হাজার ৬৯০ জন।
২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার দশ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৯ সাল বাদে প্রতি বছরই পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী বাড়ছে দ্রুততার সঙ্গে। ইকোনমিস্ট এর প্রতিবেদন বলছে, ২০০০ সালে সারা বিশ্বে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ছিলেন তার ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ ছিল এই অঞ্চলের। ২০৩০ সাল নাগাদ এ হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু যে হারে এই অঞ্চলে শিক্ষার্থী বাড়ছে, সে হারে উচ্চ শিক্ষার কেন্দ্র বাড়ানো যাচ্ছে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ সুযোগে বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে সংশয় আছে।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ‘এ’ লেভেল বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আসনের বিপরীতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী প্রায় চারজন। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় প্রায় পাঁচ করে। নেপালে দুজনের বেশি। আর ভারত পাকিস্তানে একজনের বেশি। ইকোনমিস্ট বলছে, এই অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন নতুন ধারণার প্রতি ঝুঁকতে হবে। এর একটি হলো অনলাইনে উচ্চশিক্ষা বা ‘ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্সেস (মুকস) ’।
ইতিমধ্যে এ অঞ্চলে নতুন এই পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে, বিশেষ করে ভারতে। বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন কোর্স হার্ভার্ডএক্স (HarvardX) তার প্রমাণ। এই কোর্সে সারা বিশ্ব থেকে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী আছেন তার আট শতাংশের বেশি ভারতের। ভারতের মতো না হলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীরাও কোর্সটিতে আছেন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী আছেন মোট শিক্ষার্থীর দশমিক তিন শতাংশ, পাকিস্তানি আছেন এক শতাংশ, নেপালের শিক্ষার্থী দশমিক দুই এবং শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থী আছে দশমিক এক শতাংশ।
বিশ্বে অনলাইনে উচ্চ শিক্ষা সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হচ্ছে এশিয়ায়। এ অঞ্চলে অনলাইনে উচ্চ শিক্ষা বৃদ্ধির হার ১৭ শতাংশের বেশি। ই-লার্নিং বেশি এমন ১০টি দেশের সাতটি এশিয়ার। নেপাল ও পাকিস্তানে ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৩০ শতাংশের ওপরে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনলাইন সত্যিকারভাবেই একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌতকাঠামো দুর্বল। হলগুলোতে হানাহানি, রাস্তায় যানজট। এসব হয়তো সামনে আরও বাড়বে। এক সময় শিক্ষার্থীরা এসব থেকে মুক্তি নেবে। তথ্য প্রযুক্তি যেভাবে এগোচ্ছে, দেশে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে যেভাবে কাজ হচ্ছে, ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য হচ্ছে তাতে অনলাইনে উচ্চশিক্ষা কঠিন কিছু হবে না। তা ছাড়া ডিসটেনস লার্নিং বা দূর শিক্ষার ঐতিহ্য বাংলাদেশে আছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তা করছে।
মনজুরুল ইসলাম মনে করেন, প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা অনলাইন নির্ভর করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ কমবে। গবেষণা বাড়বে। তিনি মনে করেন, উচ্চশিক্ষার প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য। একটি হলো জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আরেকটি হলো আলোকবর্তিকা হওয়া। এমন হতে পারে যাঁরা চাকরি বা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী তাঁরা অনলাইনে পড়বেন আর যাঁরা শিক্ষকতা, গবেষণা—এ ধরনের বিষয়ে আগ্রহী তাঁরা প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন।
On 11:04 AM in
jack ma-alibaba
নিজের পরিবারের দরিদ্রতা নিয়ে আফসোস না করে, নিজের দরিদ্রতার দোহাই দিয়ে অন্যের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা গ্রহনের চেষ্টা না করে, নিজেকে প্রস্তুত করুন, কঠিন পৃথিবীতে নিজের অবস্থান প্রস্তুত করুন। আর এজন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম, সাধনা। পরিশ্রমকারী ব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না, কোন না কোন রাস্তা তার জন্য খুলে যায় একদিন। বিল গেটস থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যক্তিরা আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছেন, শুধুমাত্র নিজেদের পরিশ্রমের কারনে।
জনপ্রিয় ট্রেডিং সাইট alibaba.com এর কর্ণধার এবং চীনা কোটিপতি জ্যাক মার গল্পটাও সেরকম। জ্যাক মাকে না চিনলেও alibaba.com চিনেনা, এরকম মানুষ কম পাওয়া যাবে। এ জ্যাক মা এখনকার অবস্থানে কখনও ছিলেননা। উনার আজকের এ উথ্থানটাই হয়েছে alibaba.com এর মাধ্যমে। যখন উনি এ ওয়েবসাইট নিয়ে ভাবেন, তখন চীনের ইন্টারনেট এত বেশি ব্যবহৃত হত না। সেই দেশে বসে এধরনের ওয়েবসাইটের কল্পনা করাটাও আসলে তখন অনেক রিস্কের ছিল। উনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ২৫জন বন্ধুর সাথে আগে বসে মিটিং করেন। মজার বিষয় হচ্ছে ২৫জনের মধ্যে ২৪জনই এধরনের অবাস্তব স্বপ্নের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেন। শুধু একজন তাকে তার লক্ষে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। জ্যাক মা নিজেও তার লক্ষ্যের দিকে স্থীর থাকে, এবং প্রচুর পরিশ্রম শুরু করে দেন। উনি বলেন, আজ আলিবাবা আমাকে এই পর্যায়ে আনেনি আমি আলিবাবাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আপনাকে কেউই হাতে ধরিয়ে দিবেনা কিছু আপনার হাতে ধরে নেয়া জানতে হবে চেষ্টা করতে হবে। নিজের যুবক সময় কাজ করার সময়কে প্রকৃত কাজে লাগাতে হবে।

জ্যাক মা যুব সমাজের জন্য যারা নিজেরা কিছু একটা করে দেখাতে চান তাদের জন্য কয়েকটি উক্তি করেন –

  • আপনার দরিদ্র হয়ে জন্মানোটা দোষের না কিন্তু দরিদ্র হয়ে থাকাটাই দোষের।
  • আপনি যদি একটি দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়ে নিজের ৩৫ বছর বয়সেও সেই দরিদ্রই থাকেন তবে দরিদ্র হয়ে থাকাটা আপনার কপালের দোষ নয়, আপনি এটি প্রত্যাশা করেন। কারন আপনি আপনার যুবক বয়সকে কোন কাজে লাগাতে পারেন নি, আপনি সম্পূর্ণ ভাবে সময়টা নষ্ট করে দিয়েছেন।
  • জীবনে অনেক উপরে উঠতে হলে ২৫ বছর থেকেই শুরু করুন, নিজে পরিকল্পনা করুন, তাই করুন যা আপনি উপভোগ করতে জানেন।
  • এগিয়ে যাও তা না হলে ঘরে ফিরে যাও।
  • আপনি গরীব কারন আপনার দূরদর্শিতার অভাব।
  • আপনি দরিদ্র কারন আপনি আপনার ভীরুতাকে জয় করতে পারেন নি।
  • আপনি গরীব কারন আপনি আপনার সর্বচ্চো ক্ষমতা, ব্যবহার করতে পারেন নি।
  • আপনি দরিদ্র তাই সবাই আফসোস করবে কেওই আপনাকে সচ্ছল বানিয়ে দিবেনা।
  • যখন আপনার বাবা মায়ের চিকিৎসা ব্যয় আপনি মিটাতে পারবেন না কেউই আপনাকে তা দিবেন না।
  • আপনি নিজের ৩৫ বছর বয়সেও যখন কোন উন্নতি করতে পারবেন না সবাই আপনাকে উপহাস ঠিকি করবে কিন্তু কেউই আপনাকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবেনা।
  • নিজের জন্য নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। চিন্তা করতে হবে, ভাবনার সাথে প্রয়গিক বাস্তবতার সন্নিবেসন ঘটাতে হবে। ম্যাক মা আরো বলেন, অনেকেই হতাশ হয়ে যায়,

কেউ যদি নিজের জীবনে উন্নতি করতে চায় তবে এর পেছনে মূল কারন ৪টি এগুলো হচ্ছে।

১) সুযোগের প্রতি ক্ষীণদৃষ্টি দেয়া এবং তার সৎ ব্যবহার করা।
২) সুযোগ খুঁজতে থাকা, কখন আসবে তা আপনি জানেন না তাই সচেষ্ট থাকা।
৩) যেকোনো জিনিস বুঝতে জানা, বুঝার চেষ্টা করা।
৪) হেরে যেতে না জানা, যদি হেরে যেতে হয় তবে এতো জলদি কেনো? লেগে থাকতে জানতে হবে।
উপরের সব কিছু যে অনুসরন করবে সে কখনোই দরিদ্র হয়ে থাকবেনা। আর যে নিজের ৩৫ বছর বয়সেও দরিদ্র থাকে তা হলে সে সেটা প্রত্যাশাই করে। আপনি দরিদ্র কারন আপনার কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।
জ্যাক মা
আলিবাবা ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন