জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন।

Showing posts with label kids of bd. Show all posts
Showing posts with label kids of bd. Show all posts
জাপানিজরা বাচ্চা থাকতেই পরিশ্রম করতে শিখে। উন্নত দেশ বলে ওদের মুখে সোনার চামচ দিয়ে খাবার তুলে দেয় না বাবা মায়েরা। স্কুলে ওরা শুধু পড়াশোনা করতে যায় না, ওরা ফার্মিং (আলু, সব্জি সহ অন্যান্য খাদ্য শস্য চাষ করে ) করে, সেই উৎপাদন থেকে ওদের স্কুলের লাঞ্চ তৈরি হয়। টিফিনের সময় খাবার কালেকশন করতে গিয়ে বাবুর্চিদেরকে যথেষ্ট সম্মানের সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে। এর পর থেকে প্রতিটা কাজ যেমন খাবার বিতরণ, সংগ্রহ, ধোয়া, মোছা এমনকি স্কুলের ফ্লোর ঝাড়ু দেয়া ও মোছার কাজও ওরা করে। প্রত্যেকটা কাজকে ওরা সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করে বলেই এটা সম্ভব।

আমাদের দেশে বাবা মায়েরা বাচ্চাদেরকে কিছুই করতে শেখান না। একটা সময় পর্যন্ত কোলে বসিয়ে খাওয়ান, একটু বড় হলে কাছে বসিয়ে খাইয়ে দেন, আরও বড় হলে নলা ধরে খাইয়ে দেন। মা সারাদিন ঘর সামলান এরপর বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় ধুয়ে দেন, রূম গুছিয়ে দেন... এভাবে সব কিছুই করে দেন। বাচ্চারা শুধু আলালের ঘরের দুলালের মতো পায়ের উপর ঠ্যাং তুলে খায় আর যতো বড় হয় ততো বাবা-মা কে শাসায়। বাবা-মাও ভালোবাসার ঠেলায় চোখ-মুখ বুজে সহ্য করে যান। চিন্তা করেন, এদেরকে মানুষ করতে হলে কষ্ট করতে হবে, বড় হলে ওরা ভাল হয়ে যাবে, বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে, বড় হলে বুঝবে।

বাচ্চারা আর বড় হয় না। ভালও হয় না। সব কিছু ঠিকও হয় না। বাচ্চাই থেকে যায়। তাদের অনেক বেতনের চাকরি লাগে। ঘর দোর ঝাড়-মোছ করতে একজন লাগে, থালা বাসন কুশন ধুয়ে দিতে একজন লাগে। তরি তরকারি কাটাকুটা করতে আরেকজন লাগে। দৈনন্দিন কাজ গুলো করতে অনেক চাকর লাগে। রাজা হয়ে থাকতে চায়। কেউ এসে করে দিবে এমনটা সে ছোট থেকেই শিখেছে। এভাবে এদের পা আর মাটিতে নামে না... উড়তে থাকে।

সংকলিত-