বাংলাদেশ মানেই সবুজ। চোখে পড়া ধানের ক্ষেত, নদীর বাঁক, আর মানুষের অদম্য স্বপ্ন।
এই দেশের জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালে, অসংখ্য ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে। স্বাধীনতা এসেছিল, কিন্তু স্বাধীন দেশের স্বপ্নগুলো বাস্তব রূপ পেতে সময় লেগেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর আর গড়ে ওঠার মতো একটি পরিবেশ তখন সহজে তৈরি হয়নি।
এই বাস্তবতা থেকেই একদল স্বপ্নবান মানুষ ভাবলেন, “দেশ বদলাতে হলে শুরু করতে হবে শিশুদের দিয়ে।”
সেই ভাবনার ফলই ফুলকুঁড়ি আসর।
একটি ভাবনা থেকে একটি আন্দোলন
১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ফুলকুঁড়ি আসরের যাত্রা শুরু। উদ্দেশ্য একটাই—আজকের শিশুদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা আগামী দিনের দায়িত্ব নিতে পারে মাথা উঁচু করে। ফুলকুঁড়ি বিশ্বাস করে, ভালো মানুষ না হলে ভালো দেশ হয় না।
এই দর্শনের কেন্দ্রে আছে একটি সহজ কিন্তু গভীর কথা—
“নিজেকে গড়ো”
নিজেকে গড়তে পারলেই সমাজ বদলানো সম্ভব, বিশ্ব বদলানো সম্ভব।
পাঁচটি মূল স্তম্ভ, একটি মানুষ
ফুলকুঁড়ি আসর শিশুদের গড়ে তোলে পাঁচটি মূল নীতির ওপর দাঁড়িয়ে—
ঐক্য, শিক্ষা, চরিত্র, স্বাস্থ্য এবং সেবা।
এই পাঁচটি গুণ একসাথে মিললেই তৈরি হয় একজন পরিপূর্ণ মানুষ।
শেখা শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়
ফুলকুঁড়ির শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষার ফল নয়। এখানে আছে সাহিত্যচর্চা, বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, গল্প বলা, ভাষা শেখা, নেতৃত্ব বিকাশের কর্মশালা। শিশুদের ভাবতে শেখানো হয়, কথা বলতে শেখানো হয়, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে শেখানো হয়।
সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা
সংস্কৃতি ছাড়া মানুষ অসম্পূর্ণ। তাই গান, আবৃত্তি, অভিনয়, নাটক, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালন—সবই ফুলকুঁড়ির নিয়মিত চর্চার অংশ। শিক্ষা সফর, নৌভ্রমণ কিংবা দলগত কার্যক্রম শিশুদের শেখায় একসাথে চলতে।
শরীর ও মন—দুটোরই যত্ন
মাঠকর্ম, র্যালি, মার্চপাস্ট, খেলাধুলা, শারীরিক ব্যায়াম—এসবের মাধ্যমে শিশুদের শরীর যেমন শক্ত হয়, তেমনি মনেও জন্ম নেয় শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস।
প্রকৃতি, শিল্প আর বিজ্ঞান হাতে-কলমে
গাছ লাগানো, বাগান করা, আঁকা, হস্তশিল্প, আর্ট একাডেমি—এগুলো শিশুদের সৃজনশীল করে তোলে।
আর বিজ্ঞান? ফুলকুঁড়ি চায় শিশুরা কৌতূহলী হোক। বিজ্ঞান কুইজ, আলোচনা, বিজ্ঞান মেলা—সব মিলিয়ে বিজ্ঞান হয়ে ওঠে আনন্দের বিষয়, ভয় নয়।
সমাজের জন্য কিছু করা শেখা
চক্ষু শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ, প্রাথমিক চিকিৎসা শেখা, সাক্ষরতা কার্যক্রম—শিশুরা ছোট বয়সেই শিখে যায়, সমাজ মানে শুধু “আমি” নয়, “আমরা”।
নেতৃত্বের প্রথম পাঠ
১৯৮৫ সাল থেকে ফুলকুঁড়ির নেতৃত্ব ক্যাম্পগুলো শিশুদের জীবনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। শিশু সংসদ, আলোচনা, চ্যালেঞ্জিং আওয়ার, হাইকিং, কর্মশালা—এই অভিজ্ঞতাগুলো শিশুদের ভেতরে দায়িত্ববোধ আর আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলে।
ফুলকুঁড়ি কাগজে-কলমে নয়, মঞ্চেও
১৯৭৮ সাল থেকে প্রকাশিত মাসিক শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘ফুলকুঁড়ি’ শুধু একটি ম্যাগাজিন নয়, এটি বহু লেখক ও চিন্তাশীল মানুষের প্রথম প্ল্যাটফর্ম।
কিশোর থিয়েটার, পথনাটক, পুরস্কারপ্রাপ্ত নাটক—ফুলকুঁড়ির শিশুরা সংস্কৃতির ময়দানে নিজেদের ছাপ রেখে চলেছে।
স্বীকৃতি অনুপ্রেরণা আনে
২০০৬ সাল থেকে দক্ষতা ব্যাজ, আর ২০০৭ সাল থেকে অগ্রপথিক ব্যাজ—এই স্বীকৃতিগুলো শিশুদের শেখায়, পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।
যারা পিছিয়ে, তাদের সঙ্গেই পথচলা
ফুলকুঁড়ি শুধু সুবিধাভোগী শিশুদের জন্য নয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, বৃত্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশু ভবনের স্বপ্নও এই সংগঠনের চিন্তার অংশ।
শেষ কথা নয়, শুরু
ফুলকুঁড়ির স্বপ্ন একটাই—
একটি সুন্দর পৃথিবী, যেখানে সততা, ন্যায় আর ভালোবাসা রঙ ছড়াবে।
যেখানে শিশুরা বড় হবে মানুষ হয়ে, আলো হয়ে।
ফুলকুঁড়ি আসর সেই আলোরই বীজ বপন করছে।
আজ নয়, কাল নয়—অনেক দিন ধরে।
আর সেই সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে দেশ ছাড়িয়ে, সীমানার বাইরে।
লেখিক: লিনা আক্তার
বন্ধুরা, আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। তোমাদের জন্যই বাংলাদেশের আগামীর দিনগুলো অপেক্ষা করছে। তাই তোমাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। আজ আমরা কথা বলবো এমন একটি বিষয়ে, যা তোমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত—ফাস্টফুড।
ফাস্টফুড কী?
ফাস্টফুড বলতে সাধারণত এমন খাবার বোঝায় যা খুব দ্রুত তৈরি হয় এবং কম সময়ে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। এগুলো আগে থেকে রান্না করা বা গরম করা উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। সুবিধাজনক হলেও এসব খাবারে থাকে প্রচুর চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্সফ্যাট, প্রিজারভেটিভ এবং প্রক্রিয়াজাত উপাদান।
কিশোর-কিশোরীদের জীবনে ফাস্টফুডের প্রভাব
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীরা তাদের বাজেটের প্রায় ৪৫ শতাংশ ফাস্টফুডে ব্যয় করে। এটি শুধু অভ্যাস নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও। অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে হতে পারে:
স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি
হৃদরোগের ঝুঁকি
ডায়াবেটিসের প্রবণতা বৃদ্ধি
পুষ্টিহীনতা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
কেন এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার
বয়সটা যখন বেড়ে ওঠার, তখন শরীরের সঠিক বিকাশের জন্য প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারযুক্ত খাবার প্রয়োজন। কিন্তু ফাস্টফুডের অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য এই জরুরি উপাদানগুলো সরবরাহ করতে পারে না। বরং এটি শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমিয়ে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সমাধান কী হতে পারে
1. টিফিন বা নাশতায় ফাস্টফুডের বদলে ফল, বাদাম, ডিম বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলো।
2. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করো।
3. নিয়মিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা করো।
4. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করো।
উপসংহার
তোমাদের আজকের সঠিক সিদ্ধান্তই গড়বে আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাই এখন থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা জরুরি। মনে রাখো, শরীর সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকে, আর মন ভালো থাকলে স্বপ্ন পূরণ হয় সহজে।
"সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের বছর"
"ফুলকুঁড়িতে লিখি লেখালিখি শিখি"
জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর রাজশাহী মহানগরীর আয়োজনে কবি আহমেদ হিমেলের স্মরণে সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মিপরিষদ সদস্য, রাজশাহী মহানগরীর পরিচালক মোঃ আবু হানিফ এর ব্যবস্থাপনায়, শাখার সহকারী পরিচালক মোঃ মুরশালিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সরদার মুকতার আলী , কবি আব্দুর রাজ্জাক রিপন , বিশিষ্ট কবি হাসান আবাবিল , বিশিষ্ট সাহিত্যিক ফারহানা শারমিন জেনি , বিশিষ্ট ছড়াকার সুমাইয়া আক্তার, শাখার প্রাক্তন পরিচালক আবৃত্তিকার আব্দুর রহিম।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাখার অর্থ সম্পাদক আমানুল্লাহ , খেলাধুলা ও ব্যায়াম সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্য সংগঠক এবং খুদে সাহিত্যিকরা।
অনুষ্ঠানে কবি আহমেদ হিমেল এর স্মরণে কবির জীবনী পাঠ করা হয় যেখানে তার জীবন ও কর্মের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো শিশুদের মাঝে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে শিশুরা তাদের স্বরোচিত বিভিন্ন লেখা পাঠ করে এবং ছড়া পাঠ করে।
আজ যারা কুঁড়ি, আগামীতে তারাই ফুটবে ফুল হয়ে। আপন রঙে রাঙিয়ে দিবে এই পৃথিবীকে। ফুলের সৌরভে বাগানে নেমে আসবে খুশির জোয়ার। আমাদের সমাজেও আমরা সে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে চাই। সমাজ থেকে দূর করতে চাই অজ্ঞানতা, কুসংস্কার আর অশিক্ষার অন্ধকার। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ, ঘৃণা নয়; আমরা চাই সত্য, ন্যায় ও ভালবাসার বিজয়। তাই এ সমাজে ফোঁটাতে চাই ফুল। জ্ঞানের উজ্জ্বল আলো আর চরিত্রের সৌরভ ছড়িয়ে সে ফুল হাসবে আমাদের সমাজে। এমনই হাজারো ফুল ফুটাবার দীপ্ত শপথেই ফুলকুঁড়ি আসরের জন্ম।
ফুলকুঁড়ি আসর দেশ সেবায় ব্রত সদা সুন্দরের পতাকাবাহী শিশুকিশোরদের একটি সংগঠন। জ্ঞানের সাধনায় সদা তৎপর শিশুকিশোরদের এক সুশৃঙ্খল সমাবেশ। সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে শিশুকিশোরদের এক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা।
আমাদের দেশে বাবা মায়েরা বাচ্চাদেরকে কিছুই করতে শেখান না। একটা সময় পর্যন্ত কোলে বসিয়ে খাওয়ান, একটু বড় হলে কাছে বসিয়ে খাইয়ে দেন, আরও বড় হলে নলা ধরে খাইয়ে দেন। মা সারাদিন ঘর সামলান এরপর বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় ধুয়ে দেন, রূম গুছিয়ে দেন... এভাবে সব কিছুই করে দেন। বাচ্চারা শুধু আলালের ঘরের দুলালের মতো পায়ের উপর ঠ্যাং তুলে খায় আর যতো বড় হয় ততো বাবা-মা কে শাসায়। বাবা-মাও ভালোবাসার ঠেলায় চোখ-মুখ বুজে সহ্য করে যান। চিন্তা করেন, এদেরকে মানুষ করতে হলে কষ্ট করতে হবে, বড় হলে ওরা ভাল হয়ে যাবে, বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে, বড় হলে বুঝবে।
বাচ্চারা আর বড় হয় না। ভালও হয় না। সব কিছু ঠিকও হয় না। বাচ্চাই থেকে যায়। তাদের অনেক বেতনের চাকরি লাগে। ঘর দোর ঝাড়-মোছ করতে একজন লাগে, থালা বাসন কুশন ধুয়ে দিতে একজন লাগে। তরি তরকারি কাটাকুটা করতে আরেকজন লাগে। দৈনন্দিন কাজ গুলো করতে অনেক চাকর লাগে। রাজা হয়ে থাকতে চায়। কেউ এসে করে দিবে এমনটা সে ছোট থেকেই শিখেছে। এভাবে এদের পা আর মাটিতে নামে না... উড়তে থাকে।
সংকলিত-
রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে অমৌসুমি কাঁঠালের একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন।বারি কাঁঠাল-২ নামে এ জাতটি আনসিজন অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।নতুন উদ্ভাবিত বারি কাঁঠাল-২ জাতটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বীজ প্রত্যায়ন বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সব ধরনের তৃণলতার মাটির ভাঙন রোধের ক্ষমতা সমান নয়। অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, জিম্বাবুয়ে, পৃথিবীর এ মাথা থেকে ও মাথা ব্যবহৃত হয় একটি বিশেষ প্রজাতির ঘাস বিন্না বা খসখস। বাংলা, হিন্দিতে এ নামেই ডাকা হয়। ইংরেজি নাম ভেটিভার। জনপ্রিয় এ ঘাসের গুণের শেষ নেই। নদীর পার, পাহাড়ি ঢাল, গ্রামের রাস্তা ও মহাসড়ক এবং সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বিন্নাঘাসের আবাদ ও ব্যবহারে ভাঙন রোধ হয়। এটি আবার সুগন্ধিও। তাই প্রসাধনীসহ অনেক জিনিসের কাঁচামাল হিসেবে বিন্না ঘাস ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক দেশে। আমাদের দেশে একে অনেকে খসখস নামেও ডাকে। এ ঘাসটির রাসায়নিক গুণাগুণ এবং উন্নয়নকাজের ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে অনেক দিন ধরেই বুয়েটে গবেষণা চলছে। বিন্না ঘাসের মূল মাটির গভীরে চলে গিয়ে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। বিশেষত উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে আর সব উদ্ভিদের চেয়ে এর মূল বেশি কাজে দেয়। লম্বা শিকড় অল্প দিনেই মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এ শিকড় চলে যায় ১০ থেকে ১৪ ফুট গভীরে। চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে মাটিতে বোনা ঘাস ঢাল রক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। হিম ঠাণ্ডা কিংবা খরতাপ-সব পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এ ঘাসের। মাইনাস ১৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও বেঁচে থাকতে পারে। আবার অনাবৃষ্টিতে নেতিয়ে পড়ে না, পানিতে ডুবে থাকলেও পচে যায় না। আগুন, পোকামাকড় ও রোগের প্রকোপ থেকে রেহাই পাওয়ার ক্ষমতা একে প্রকৃতিই দিয়েছে। আর লবণাক্ততায় টিকে থাকতে পারে বলে সমুদ্রতীরের এলাকায় বাঁধ রক্ষায় ভেটিভার সহজেই ব্যবহার করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ঘাসের একটা শিকড়ের সহনশক্তি ইস্পাতের ছয় ভাগের এক ভাগ! অর্থাৎ ছয়টা শিকড় একসঙ্গে করলে এটি ইস্পাতের মতোই শক্তিশালী।
ভেটিভার বা বিন্নি ঘাসের ব্যবহারঃ-
বাঁধ রক্ষা ভেটিভারের অনেক কাজের একটি মাত্র। কয়েকটি দেশে মাইলের পর মাইল ভেটিভার ঘাসের চাষ হয় বাণিজ্যিকভাবে। সুঘ্রাণ ধরে রাখতে পারে এটি। তাই পশ্চিমা বিশ্বের নব্বই ভাগ সুগন্ধীতে ব্যবহৃত হয় ভেটিভারের নির্যাস। গায়ে মাখার ক্রিম, শেভিং ফোম, সাবান ও রূপচর্চার ফেসপ্যাক তৈরিতেও কাজে আসে ভেটিভার। প্রাচীন তামিল পুঁথিতে লিপিবদ্ধ ঘাসটির ঔষধি গুণের কথা। আজও এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু এলাকায় ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় খসখস ঘাস। ভারতে ব্যবহৃত হয় ঘর ঠাণ্ডা রাখার উদ্দেশ্যে। ভেটিভারের শিকড় দিয়ে মাদুর বানিয়ে গ্রীষ্মকালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় সদর দরজায়। নিয়মিত বিরতিতে পানি ছিটিয়ে মাদুরটি ভেজা রাখা হয়। বাতাস বইলে ঘর তো ঠাণ্ডা হয়ই, সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে সুঘ্রাণ। ঠিক যেন প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনার কাম ফ্রেশনার। যাদের ফ্রিজ নেই, তারা ঠাণ্ডা করতে পাতলা কাপড়ে ভেটিভার মুড়ে রেখে দেন পানিতে। এ ছাড়া কাগজ ও পার্টিক্যাল বোর্ড তৈরির কাঁচামালও এই ভেটিভার দিয়ে। দড়ি, টুপি ও ঝুড়ি বানাতে কাজে লাগে এর শক্ত শিকড়। ব্যবহৃত হয় মাশরুম চাষে। এ ঘাসে জৈবসারও তৈরি হয়।
সম্ভাবনা অপারঃ
সারা পৃথিবীতে ভেটিভারের কদর আকাশছোঁয়া। এ ঘাসের ইতিবৃত্ত জানার জন্য গবেষণার অন্ত নেই। সে তুলনায় বাংলাদেশে এ ঘাস বলতে গেলে অবহেলিত রয়ে গেছে। অথচ জানা মতে, ভেটিভারের অন্তত একটি প্রজাতি এখানকার মাটিতেই জন্মায়। আর তাই ভেটিভার-সংক্রান্ত গবেষণায় এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বাঁধ রক্ষায় ভেটিভারের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের জরিপে বাংলাদেশের অনেক জেলায় এ ঘাসের সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশে পাওয়া প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ভেটিভারিয়া জাইজানিওডিস। তবে এই ঘাস কাজে লাগানোর আগে এখানকার মাটি এবং জলবায়ুর সঙ্গে ভেটিভারের আচার-আচরণের খুঁটিনাটি জানা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিচিত্র ধাতের জলবায়ুতে ভেটিভার বা বিন্নি ঘাস খাপ খাওয়াতে পারছে কি না সেটাও দেখা দরকার। ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ও তাঁর দল ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় যেমনঃ কুয়াকাটা, ঢাকার পুবাইল, রাজশাহীতে ভেটিভার দিয়ে বাঁধ রক্ষাসংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রতিনিয়ত পরিষ্কার হচ্ছে ভেটিভারের নানা বৈশিষ্ট্য।শিকড় মাটিতে পোক্তভাবে জন্মানোর পর ওপরের দিকে বেড়ে ওঠা ঘাস নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। এভাবে ছেঁটে ফেলা ভেটিভারও ফেলনা নয়। ওপরে বলা হরেক কাজের একটিতে ছাঁটা ঘাস কাজে লাগানো যায়। দেশে সেভাবে এখনো শিল্প গড়ে না উঠলেও কাঁচামাল হিসেবে ভেটিভার রপ্তানি করা যেতে পারে। গ্রামাঞ্চলে মাটির ঘরে আগে খড়ের ছাউনি ব্যবহৃত হতো। বন উজাড় করার ফলে ক্রমে দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাওয়ায় সে জায়গা নিয়েছে টালির ছাদ। মাটির টালি বসিয়ে তৈরি ছাদ দারুণ ঠুনকো, ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ে ধসে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে। আর ঘরের ছাদে ব্যবহৃত হতে পারে খসখস ঘাস। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় পানীয় রুহ আফজার অন্যতম উপাদান ভেটিভার।
এখানেই শেষ নয়। নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার না করে ভেটিভার ঘাস লাগানো যায়। যেমন, লেকের পাড়ে কংক্রিট না দিয়ে ভেটিভারের আবাদ করা যায়। এতে একচিলতে সবুজে যেমন চোখ জুড়াবে, তেমনি শহরের বিষাক্ত বাতাসে সবুজ ঘাস ছড়িয়ে দেবে অঙ্েিজন। অথবা বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে পার্কের যে ছাউনিতে বসে লোকে বিশ্রাম নেয়, তার ওপরে ছাওয়া যেতে পারে ভেটিভার ঘাসের ছাদ। ভেটিভার ব্যবহারে পরিবেশের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কেননা এই সবুজ প্রযুক্তি প্রয়োগের সময় বা পরে কখনোই বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢেলে দেয় না।
খুঁজে দেখো -----
জনপ্রিয় লেখা
-
পানিভর্তি গ্লাস হাতে নিয়ে ক্লাশ আরম্ভ করলেন এক প্রফেসর। হাত দিয়ে গ্লাসটি উঁচু করে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, “এই গ্লাসটির ওজন কত বলতে পার?” । ৫০ ...
-
আমাদের অধিকাংশেরই মন মানসিকতা এমনভাবে গড়ে ওঠেছে যে, চাকরগিরী কিংবা কেরানিগিরী করা ছাড়া স্বাধীন উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তাও যেন আমরা করতে পা...
-
জাপানিজরা বাচ্চা থাকতেই পরিশ্রম করতে শিখে। উন্নত দেশ বলে ওদের মুখে সোনার চামচ দিয়ে খাবার তুলে দেয় না বাবা মায়েরা। স্কুলে ওরা শুধু পড়াশ...
-
সব ধরনের তৃণলতার মাটির ভাঙন রোধের ক্ষমতা সমান নয়। অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, জিম্বাবুয়ে, পৃথিবীর এ মাথা...
-
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে ডিজিটাল কানেকটিভিটির আওতায় আনা হবে। ...
-
মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ৭ ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারে এটি চালাতে ৩২ এবং ৬৪ বিটের জন্য যথাক্রমে ১ এবং ২ গিগাহার্টজ প্রসেসর লাগবে। র্...
-
একটি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। এই যড়যন্ত্র ...
-
নিজের পরিবারের দরিদ্রতা নিয়ে আফসোস না করে, নিজের দরিদ্রতার দোহাই দিয়ে অন্যের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা গ্রহনের চেষ্টা না করে, নিজেকে প্রস্তু...

















